গত মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে একটি অভিযোগের কথা তুলে ধরেছেন সুরুজ বাসফর। এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করে বলেছেন, আমাকে জোর করে এ বিয়েতে রাজি করানো হয়েছে। আমি প্রথমে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে আমাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়। জানা যায়, সনাতন ধর্মের প্রথা অনুযায়ী মাথায় সিঁদুর দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এই বিয়ে। কিন্তু তাদের এই বিয়ের নিবন্ধন করা হয়নি। রাজশাহীতে থামাকালীন সরিজের সাথে এ ঘটনাটি ঘটে।
তার বাড়ি রংপুরে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুরুজ স্টাফ কোয়ার্টারে থাকেন। বাবু হেলা নামে রামেক হাসপাতালেরই রান্নাঘরে দায়িত্বরত চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর মেয়ের সঙ্গে গত শনিবার তার বিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলন করে সুরুজ বলেন, হাসপাতালের কোয়ার্টারে থাকি আমি। পাশেই কোয়ার্টারে পরিবার নিয়ে থাকেন বাবু হেলা। তার স্বামী পরিত্যক্তা মেয়েকে বিয়ের জন্য আমাকে প্রস্তাব দেয়া হয়। ওই প্রস্তাব নাকচ করি দেই আমি। এরই মধ্যে কোয়ার্টার ছেড়ে দিতে নতুন বাসা খুঁজতে শুরু করি।

শনিবার বাবু হেলার স্ত্রী এবং মেয়ে আমাকে বাসা দেখানোর নাম করে হাসপাতাল থেকে ডেকে নিয়ে যান। অটোরিকশায় ওঠার পর হঠাৎ অপরিচিত দুই যুবকও অটোরিকশায় ওঠেন। তারা জোর করে আমাকে হড়গ্রাম শিবমন্দিরে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে ৭-৮ জন যুবক অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু মন্দিরে ছিলেন না কোনো ঠাকুর। মন্দিরের সামনে আমাকে অস্ত্রের মুখে বাবু হেলার মেয়ের মাথায় সিঁদুর দিতে বাধ্য করা হয়। তখন সেই ছবি তোলা হয়। এরপর থেকে প্রচার চালানো হয় আমার বিয়ে হয়ে গেছে।

সুরুজ বলেন, এ ব্যাপারে প্রথমে রামেক হাসপাতাল কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের কাছে অভিযোগ দেই। তারপর থেকে বাবু হেলার পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমার মামা এবং বোন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ সময় তাদের মারধর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরদিনই রাজপাড়া থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে অভিযোগ করতে চাই। কিন্তু কোনো ছেলেকে তুলে নিয়ে বিয়ে করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। কয়েক দফা থানায় ঘুরেও পরে অভিযোগ দিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে সুরুজ বাসফরের মামা শ্রী তাজ এবং সহকর্মী জনি প্রামাণিক উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বাবু হেলাকে ফোন করা হয়। কিন্তু ফোন না ধরার কারণে বক্তব্য পাওয়া যায়নি তার।

এ বিষয়ে নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশের ওসি শাহাদাত হোসেন খান বলেন, নিবন্ধন না হলে তো আইনগতভাবে বিয়ের কোনো ভিত্তি নেই। এটা প্রথা অনুযায়ী হতে পারে। আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।

এ সময়ে সংবাদ সম্মেলনে সরুজ আরও বলেছিলেন, আমার বিয়ে হওয়ার প্রচার চালানোর পরপরই আমাকে বালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আমি কোনো ভাবেই এ বিয়েকে মানি না। তাছাড়া আমি অস্ত্রের মুখে পড়েই বাবু হেলার মেয়ের মাথায় সিদুর পরিয়েছিলাম। কিন্তু এ বিয়ে আমি মানি না। আমি কখনও বাবু হেলার বাড়িতে যাইনি। তার মেয়েকেও বাসায় নিয়ে যাইনি। তবে অন্যদিকে এ অভিযোগ আসায় পুলিশ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে তদন্তের কাজে নেমে পড়েছেন বলে জানা গেছে।