প্রশাসনের কর্মকর্তারাই যদি সাধারন মানুষের সাথে প্রাতারনার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো অপরাধের সাথে জড়িত থাকেন, তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে সারাদেশে দূর্নীতি, অনিয়মের জন্য প্রশাসনের বাইরের কোনো লোকের প্রয়োজন নেই তারাই যথেষ্ট। সম্প্রতি এ এমনই ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়। জানা যায়, পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে চাকরী দেয়ার কথা বলে ধীর্ঘদিন ধরেই সাবেক এস-আই ফখরুদ্দিন সাধারন মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা। তবে গতকাল কুমিল্লা জেলা পুলিশের অভিযানে তিনি আটক হন। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ভোররাতে ঢাকার খিলগাও সি ব্লক থেকে ফখরুদ্দিনকে আটক করে পুলিশ।
ফখরুদ্দিন কুমিল্লা লাকসাম উপজেলার বাকুই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আজাদের ছেলে। চেহারায় আভিজাত্যর ছাপ, পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিপাটি, ব্যবহার করেন বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী, চলেন দামী গাড়িতে, বাস করেন রাজধানীর , অভিজাত ফ্ল্যাটে। কথাবার্তা বাকপটু। প্রথম দর্শনে কেউ ভুল করেও সন্দেহ করবে না যে তিনি সরকারি কোনো উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নন।

পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর ফখরুদ্দিনের কাছ থেকে পুলিশের স্টিকারযুক্ত গাড়ী, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের র‌্যাঙ্গ ব্যাজ পরিহিত ছবিসহ কর্মকর্তাদের নামে তৈরিকৃত অফিসিয়াল পত্রাদি ও প্রতারণার নমুনা সম্বলিত ডকুমেন্টস উদ্ধার করা হয়। এগুলো প্রতারণার জন্য ব্যবহার করতো ফখরুদ্দিন। কখনো পরিচয় দেন ডিআইজি, কখনো পুলিশ সুপার কিংবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তবে সর্বশেষ ইন্সপেক্টরের নীচে তার পরিচয় দেননি। সর্বশেষ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে চাকরী দেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছেন ১১ লাখ টাকা। এই অভিযোগে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অভিযানে ঢাকার খিলগাও সি ব্লক থেকে আটক করা হয়।

পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর বের হয়ে আসে ফখরুদ্দিনের ভয়ংকর সব প্রতারণা। জানা গেছে, প্রতারক ফকরুদ্দিন ১৯৯১ সালে আউট সাইট ক্যাডেট (সাব-ইন্সপেক্টর) পদে চাকুরী করা কালে ১ লাক ২৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের দায়ে চাকুরী চলে যায়। তারপর থেকে শুরু হয় প্রতারণা। মাঝে ২০০০ সালে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইকালে ডিএমপি ডিবির হাতে আটক হয় ফকরুদ্দিন। জেল থেকে বেরিয়ে এসে আবারো শুরু করে প্রতারণা।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো: সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, এক মাস আগে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক সাইদুল ইসলাম একটি অভিযোগ করেন। তার ছেলেকে পুলিশের চাকুরী দেয়ার কথা বলে ফখরুদ্দিন ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তারপর কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে প্রতারক ফখরুদ্দিনকে ঢাকার খিলগাও থেকে আটক করে।

সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো: সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ফখরুদ্দিনের বিষয়টি সাধারণ মানুষের সামনে নিয়ে আসুক।এতে করে প্রতারক ফখরুদ্দিনের প্রতারণার হাত থেকে সাধারণ মানুষ বেঁচে যাবে। সংবাদ সম্মেরনে উপস্থিত ছিলেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, মোহাম্মদ শাখাওয়াৎ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আজিম উল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমনসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গতকাল সাবেক এসআই ফখরুদ্দিনকে আটক হওয়ার পর আরো অন্তত ১০/১২ জন পুলিশ কার্যালয়ে এসেছেন ফখরুদ্দিনের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে। তারা বলছেন, আমাদেরকেও সে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাইয়ে দেবার কথা বলে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে। আমরা তার উপযুক্ত শাস্তির আবেদন জানাচ্ছি। তবে জানা গেছে, এতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়ে গেছে। খুবই শিঘ্রই তাকে তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাড় করানো হবে।