সরকারি চাকরি মানে সোনার হরিন। এই সোনার হরিনের পিছনে ছুটছে অসংখ্য মানুষ। এমনকি এই সরকারি চাকরিকে ঘিরে নানা ধরনের নানা সংবাদ শুনা যায় প্রায় সময়। তবে এই সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে দূর্ণীতির প্রবণতা বেশি। এমনকি ঘুষ ছাড়া চাকরি মেলে না বর্তমান সময়ে এমন এক কথার প্রচলন হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পিরোজপুরে সরকারি চাকরি পেলেন আল-আমিন ও মনিরুল কোন প্রকার ঘুষ ছাড়া।
পিরোজপুরে ১ টাকার বিনিময়ে সরকারি চাকরি পেলেন দুই জন সরকারি চাকরি প্রত্যাশী। বুধবার (২৯ জুলাই) পিরোজপুরের জেলা প্র/শা/সক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন দুই জনের হাতে চাকরি নিয়োগ পত্র তুলে দেন। চাকরি প্রাপ্তরা হলেন পিরোজপুর সার্কিট হাউজের পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে মো. আল-আমিন হাওলাদার। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার উত্তর শিকারপুর এলাকার মৃ/ত মো. মন্নান হাওলাদারের পুত্র এবং পিরোজপুর সার্কিট হাউজের মালি পদে মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার উত্তর কৃষ্ণনগর এলাকার মো. ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। পিরোজপুরের জেলা প্র/শা/সক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন এ সময় সরকারি চাকরি প্রাপ্তদের হাতে নিয়োগপত্র, মিষ্টি, ফুলের তোড়া, পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন কাপড় ও ৪৯ টাকা উপহার হিসেবে প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্র/শা/সক (সার্বিক) নাহিদ ফারজানা ছিদ্দিকী ও অতিরিক্ত জেলা প্র/শা/সক (রাজস্ব) ঝুমুর বালা। পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পিরোজপুর জেলা সার্কিট হাউজে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও মালী পদে দুই জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় জেলা প্র/শা/স/ন। সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কারণে পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে মো. আল-আমিন হাওলাদার ও মালি পদে মো. মনিরুল ইসলামকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তারা দুই জনেই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ৫০ টাকার চালান সরকারি কোষাগারে দিয়ে চাকরির জন্য নিয়োগের আবেদন করে ছিল তারা। নিয়োগ পত্র প্রদানের সময় তাদেরকে উপহার হিসেবে ৪৯ টাকা ফেরত দেয়া হয়। যার ফলে তারা তাদের যোগ্যতা বলে মাত্র ১ টাকায় এ সরকারি চাকরি পেলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি প্রতিষ্ঠানকে যে ঘুষ-দুর্নীতি মুক্ত রাখার অঙ্গীকার করেছে এবং পিরোজপুর জেলা প্রশাসন যে দুর্নীতি মুক্ত তার প্রমান হিসেবেই এ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ সময় তাদেরকে নিয়োগ পত্রের সাথে সাথে ফুলের তোড়া, মিষ্টি ও পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন কাপড় উপহার দেয়া হয় জেলা প্র/শা/স/নের পক্ষ থেকে। কর্ম দক্ষতা থাকেল যে বিনা টাকায় চাকরি পাওয়া যায় এটা তারই প্রমান।

নিয়োগ প্রাপ্ত মো. আল-আমিন হাওলাদার বলেন, সবাই বলে সরকারি চাকরি পেতে হলে টাকা লাগে, কিন্তু স্যার আমাদের মাত্র ১ টাকায় এই সরকারি চাকরি দিছেন। আমাদের উপহার দিয়েছেন। আমার আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবো ইনশাআল্লাহ। নিয়োগ প্রাপ্ত মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, সরকারি চাকরি এখন মানুষের কাছে সোনার হরিণের মতো। আর আমাদের এই চাকরি পেলাম মাত্র ১ টাকায়। জেলা প্রশাসক স্যার আমাদের আবার ফুলের তোড়া, মিষ্টিও পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন কাপড় উপহার দিছে। যারা বলে সরকারি চাকরি টাকা ছাড়া হয় না। স্যার দেখিয়ে দিয়েছেন সরকারি চাকরি যোগ্যতায় হয় স্যারের মতো ভালো মানুষ থাকলে।

প্রসঙ্গত, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য বিশেষ ভাবে কাজ করছেন। এবং সমাজ থেকে নানা ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। এবং দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন দায়িত্ব ও সততার সঙ্গে কাজ করতে। ইতিমধ্যে সরকারের এই সকল নির্দেশনা পালনের জন্য বিশেষ ভাবে কাজ করছে কিছু দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তারা।