অবসরপ্রাপ্ত সাবেক মেজর সিনহা পুলিশের গু/লি/তে নি/হ/তে/র ঘটনার পর থেকে সমগ্র দেশ জুড়ে ব্যপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি এই ঘটনায় প্রধান আসামী হয়েছে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও/সি) প্রদীপ কুমার দাশ। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি বিশেষ ভাবে কাজ করেছে। এবং তদন্ত করতে গিয়ে তাদের কাছে উঠে এসেছে এই ঘটনাটির বেশ তথ্য।
কথিত ব/ন্দু/ক/যু/দ্ধে সরকারি অ/স্ত্র তেমন ব্যবহার করতেন না টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও/সি) প্রদীপ কুমার দাশ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তিনি নিজের অ/স্ত্র ব্যবহার করতেন। মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হ/ত্যা/র ঘটনা তদন্তে গঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটির সদস্যদের তিনি এ কথা বলেছেন। কমিটির সদস্যরা জানতে চেয়েছিলেন, আপনার সময়কালে ১০৬টি ব/ন্দু/ক/যু/দ্ধে/র ঘটনায় ১৭৪ ব্যক্তি নি/হ/ত হয়েছেন। এগুলোতে কি আপনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন? প্রদীপ বলেছেন, বেশির ভাগই তাঁর নেতৃত্বে হয়েছে। কমিটি জানতে চেয়েছিল, আপনি কতবার নিজে গু/লি করেছেন, কী অ/স্ত্র দিয়ে গু/লি করেছেন? জবাবে প্রদীপ বলেছেন, তিনি ২০-৩০ বার গু/লি করেছেন, ব্যক্তিগত অ/স্ত্র দিয়ে। তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গত সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রদীপ তদন্ত কমিটিকে বলেন, ’আমার সাড়ে সাত লাখ টাকা দামের একটি ওয়াল্টার পি/স্ত/ল আছে। আমার কাছে যেটা আরামদায়ক মনে হয়, আমি সেটা ব্যবহার করি। তা ছাড়া সরকারি কাজে ব্যক্তিগত অ/স্ত্র ব্যবহার করা যায়।’ ব্যক্তিগত অ/স্ত্রে/র গু/লি/র হিসাব কীভাবে রাখতেন? কমিটির এ প্রশ্নের জবাবে প্রদীপ বলেন, জি/ডি করে নিজের পি/স্ত/লে/র গু/লি/র হিসাব রাখতেন। কমিটি তাঁর কাছে জানতে চায়, আপনার নামে বরাদ্দ করা সরকারি অ/স্ত্র থেকে গত দেড় বছরে একটি গু/লি/ও ছোড়া হয়নি। এর কারণ কী? প্রদীপের জবাব, সরকারি পি/স্ত/ল ’ত/রা/স’ তিনি দু-একবার ব্যবহার করেছেন। এই পি/স্ত/ল দিয়ে পাঁচটির মতো গু/লি ছুড়েছেন। প্রদীপের কাছে কমিটি জানতে চায়, আপনি কি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, নাকি অধীনস্থদের পেছনে থাকেন? জবাবে প্রদীপ বলেন, ’আমি সামনে থেকেই পরিচালনা করি।’ টেকনাফের লায়লা বেগমের বাড়ি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটা নাকি আপনার জলসাঘর? কেউ বলছেন বিকল্প থানা। সে ব্যাপারে আপনি কী জানেন? প্রদীপ বলেন, ’আমি কখনো সেখানে যাইনি।’

অভিযোগ আছে, আপনার সঙ্গে মেরিন ড্রাইভে ’এ/ন/কাউ/ন্টার’ বেশি হয়। এর কারণ কী? প্রদীপ বলেন, মেরিন ড্রাইভে শুধু পুলিশ নয়, র‌্যা/ব ও বি/জি/বি/র সঙ্গেও হয়। সাম/রিক বা/হি/নী/র দুই কর্মকর্তাকে ’স্যার’ বলতে অসম্মতি জানিয়েছিলেন, এটা কি সত্যি? প্রদীপ বলেন, ’আমি বলেছিলাম, আপনাকে স্যার বলতে হবে সেটা কোথায় লেখা আছে? এটা বলা ঠিক ছিল না। এ জন্য আমি অনুতপ্ত।’ পরিদর্শক লিয়াকত আপনার বিচারে কেমন পু/লি/শ অফিসার? ও/সি প্রদীপ বলেন, ’মধ্যমানের অফিসার। লিয়াকত ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খায়। সে আমাকে না জানিয়ে এস/পিকে ফোন দেয়।’

প্রসঙ্গত, ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সিনহা হ/ত্যা মা/ম/লায় বর্তমান সময়ে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এবং তার বিরুদ্ধে উঠেছে অসংখ্য অভিযোগ। এমনকি তিনি অনিয়ম কর্মাকান্ডের মধ্যে দিয়ে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। নামে-বেনামে তার বিপুল সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘ দিন ধরে এই সকল অনিয়ম করে আসছিলেন।