নভেল করোনা ভাইরাসের তীব্র প্রকোপে বিপর্যস্ত হয়ে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার নাজেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু বাংলাদেশই নয় বিশ্বের ধনী-গরীব সকল দেশেই দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এই সংকটময় পরিস্তিতির মধ্যে বাংলাদেশের জনগনের মাঝে তেমন কোন সচেতনতা দেখা মিলছে না। স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই দেশের অসংখ্য মানুষ চলা ফেরা করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের করোনা পরিস্তিতি নিয়ে এক প্রশ্ন উঠেছে।
প্রথমতঃ, বাংলাদেশের ’হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম’ খুবই দুর্বল ও সেকেলে হওয়ার কারণে আমরা জানি না ঠিক এই মুহূর্তে COVID-19 বা করোনাভাইরাস সং/ক্র/ম/ণে/র ক্ষেত্রে আমাদের দেশের অবস্থান ঠিক কোথায়। আমরা প্রথম ঢেউয়ের কোন অবস্থানে আছি, দ্বিতীয় ঢেউ আসবে কিনা, আসলে সেটা কবে নাগাদ আসবে- এর কোনো কিছুই আমরা বিজ্ঞানসম্মত তথ্যের ভিত্তিতে জানি না৷ অনেকে অনেক মন্তব্য করে থাকেন, কিন্তু মন্তব্যগুলো শুধু নিজস্ব অনুমানের ভিত্তিতে করা, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

এখন মূল প্রসঙ্গে আসি- বাংলাদেশ কি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় প্রস্তুত? অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রশ্নটির "হাঁ" সূচক জবাব দিতে পারছি না। জনগণকে করোনার ভ/য়া/বহ/তা সম্পর্কে সতর্ক এখনো করা যায়নি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকার বিষয়টি এখনো দেশের বেশির ভাগ মানুষ আমলে নিচ্ছেন না, করোনা শনাক্তকরণ এবং ’কন্টাক্ট ট্রেসিং’ করার ক্ষেত্রে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য এখনো দেখা যাচ্ছে না, ঢাকা সহ কয়েকটি বড় শহরের বাইরে করোনা শনাক্ত করার অথবা চিকিৎসার উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা এখনো গ্রহণ করা হয়নি, পর্যাপ্ত সংখ্যক আই-সি-উ বেডও নেই। যে কয়টি আছে সেগুলোকে উপযোগী-প্রস্তুত করার জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক অথবা নার্স একেবারেই অপ্রতুল। এখনো অধিকাংশ হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিকিৎসক সহ সকল স্বাস্থ্য কর্মীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা এখনো অপ্রতুল এবং তাদের মনোবল আর আস্থা ফিরিয়ে আনার কার্যকর কোনো ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাহীন অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ জনগণ হাসপাতাল বিমুখ হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ এখনো পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি। এক কথায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এক ভয়াবহ ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে যার মেরামতের ব্যবস্থা না করলে জাতি হিসাবে শুধু করোনাই নয়, বরং করোনার মতো মারাত্মক যে কোনো সং/ক্রা/ম/ক ব্যাধির-ই মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। সেটা প্রথম ঢেউ হোক আর দ্বিতীয় ঢেউই হোক।

প্রসঙ্গত, প্রকৃত অর্থে প্রাননাশকারী করোনা ভাইরাস থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য চূড়ান্ত ভাবে ভ্যাকসিন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য সচেতনতা ছাড়া এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়। দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা পালন করা বাধ্যতামূলক।