দেশের বিদ্যুৎ খাতের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রায় সময় দেশের অনেক নামি-দামি পত্র-পত্রিকায় বিদ্যুৎ খাতের নানা অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে টাঙ্গাইলের বাসাইলে বৃদ্ধা শ্যামলা বেগম বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই লাখ টাকা বিল খেলাপির মামলার শিকার হয়েছে। তবে এবার এই মামলা থেকে রেহাই পেলেন সেই বৃদ্ধা।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে বিদ্যুৎ সংযোগ না দিয়েই লাখ টাকা বিল খেলাপির দায়ে বৃদ্ধা শ্যামলা বেগমের বিরুদ্ধে করা মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) টাঙ্গাইলের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ কর্তৃপক্ষ। মামলার বাদী টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী দফতরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইমুম শিবলী সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মামলাটি প্রত্যাহার করেন। গত ৩০ আগস্ট ’নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, বিল এলো লাখ টাকা!’ শিরোনামে এক সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে শ্যামলা বেগমের সেচ প্রকল্পে সংযোগ না দেয়ার বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

মামলার বাদী মো. সাইমুম শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শ্যামলা বেগমের নামে করা বিলের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্ত কমিটি শ্যামলা বেগমের সেচ প্রকল্পে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ার বিষয়টি দেখতে পায়। এ ঘটনায় সোমবার আদালতে শ্যামলা বেগমের হাজির হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল। নির্ধারিত দিনে টাঙ্গাইলের ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) বিদ্যুৎ আদালতে করা মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী হুমায়ন কবির বলেন, সোমবার আদালতে শ্যামলা বেগমের হাজির হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল। শ্যামলা বেগমের জন্য জামিন আবেদন করা হয়। অপরদিকে বাদীপক্ষ মামলাটির প্রত্যাহারপত্র জমা দেন। এখন শ্যামলা বেগম এ মামলা থেকে মুক্ত।

প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর হাকিমপুর গ্রামের মৃত আবদুর সবুর মিয়ার স্ত্রী শ্যামলা বেগম সেচ মেশিনে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার জন্য ২০১৪ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) টাঙ্গাইলের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এ আবেদন করেন। ওই সময় দাপনাজোর হাকিমপুর, দেউলী ও মুড়াকৈ এলাকার ১২ জনের কাছ থেকে সেচ মেশিনে বিদ্যুত সংযোগ পাইয়ে দিতে স্থানীয় শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে বাসাইল পৌর এলাকার মশিউর রহমান নামে এক ব্যক্তি ১১ লাখ টাকা নেন। ২০১৫ সালের প্রথম দিকে তিনি ৯ জনের সেচ মেশিনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেন। এছাড়া নিজ দায়িত্বে বাঁশ, সিমেন্টের খুঁটি ও তার কিনে আরও দুইজন তাদের সেচ মেশিনে সংযোগ নেন। ওই সময় রহস্যজনক কারণে শ্যামলা বেগমের লাইন না দিয়ে সংশ্লিষ্টরা তার লাইন বাতিলের কথা বলে কাজ শেষ করে চলে যায়। আবেদনের প্রায় পাঁচ বছর পর সম্প্রতি শ্যামলা বেগমের নামে এক লাখ ১৪ হাজার ৬২৭ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া দেখিয়ে আদালতে মামলা করা হয়। টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী দফতরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইমুম শিবলী বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) বিদ্যুৎ আদালতে মামলা করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, বর্তমান বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ খাতের সকল অনিয়মের প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। এবং দেশের বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নের জন্যও বিশেষ ভাবে কাজ করছে। কিছু অসাধু ব্যক্তিদের জন্য প্রায় এই বিদ্যুৎ খাত প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এমনকি এর ফলে দেশের সরকার ও বেশ বিপাকে পড়ছে। তবে সরকার এই সকল অসাধু ব্যক্তিদের চিন্হিত করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছন।