সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে উপহার প্রদান করেছে। তবে এই উপহার প্রদানকে ঘিরে দেশ জুড়ে ব্যপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে এই প্রসঙ্গে বেশ কিছু কথা তুলে ধরেছেন বিএনপি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শারীরিক ভাবে সুস্থ নেই বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কারাগারে থাকাতে তার রোগ আরও বেড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে আনার পর প্রায় এক বছর তিনি সেখানে ছিলেন কিন্তু তার যে অসুখ সে অসুখের খুব ভালো চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পরে তাকে (খালেদা জিয়া) বাসায় পাঠানো হলো। বলা যায় যে, গৃহবন্দি করা হলো কিছুটা। সেই সময় থেকে বেশি একটা উন্নতি হয়নি তার স্বাস্থ্যের। করোনা ভাইরাসের কারণে তার যে পরীক্ষা করা দরকার সেগুলো করা হচ্ছে না। অন্যদিকে তার যে ব্যক্তিগত চিকিৎসক আছেন তাদেরও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে তারাও অতিরিক্ত চিকিৎসার জন্য কাজ করতে পারছেন না। তিনি বলেন, ফের খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ালেও দুর্ভাগ্যক্রমে সেই একই শর্ত তারা (সরকার) রেখে দিয়েছেন যে, বিদেশে যেতে পারবেন না এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সব হাসপাতালে যাওয়া যাবে না। যে কারণে সমস্যাটা থেকেই যাচ্ছে।

১৫ আগস্ট চীনা দূতাবাস খালেদা জিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে এবং তা পরে ফিরিয়ে নিয়েছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ’এটা আমার জানা নেই। কিন্তু এই নিউজগুলো দেখেছি সেখানে চীনা দূতাবাস থেকে কোন বক্তব্য আসেনি। বক্তব্যটি এসেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। এটা আসলে বুঝতে পারা যাচ্ছে না এই বক্তব্যটি চীনা দূতাবাসের কি না? এ ধরনের মন্তব্য চীনা দূতাবাসের কাছ থেকে হয়েছে বলে আমি মনে করি না। চীনা কূটনীতি এতটা কাঁচা নয়, যে তারা উপহার দিয়ে পরে আবার তা প্রত্যাহার করে নেবেন। আমি মনে করি না তারা এই ধরনের কোন কাজ করতে পারেন।’

প্রসঙ্গত, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে দেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বেগম জিয়ার জন্মদিনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তুলে। এমনকি তার জন্মদিনকে ঘিরে নানা ধরনের বির্তকেরও সৃষ্টি হয়েছে। তবে ১৫’ই আগস্ট বেগম জিয়ার জন্মদিন উদযাপিত হয়ে থাকে। এ বছর দেশে চলমান করোনার সংকটময় পরিস্তিতির জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে জন্মদিন উদযাপিত না হলেও দোয়া মাহফিলের মধ্যে দিয়ে নেতাকর্মীরা তার জন্মদিন পালন করেছে।