বর্তমান সময়ে সমগ্র দেশ জুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়ি চালক আবদুল মালেক ওরফে বাদল। তিনি তার ৩৮ বছরের দীর্ঘ চাকরি জীবন নানা অনিয়মের মধ্যে দিয়ে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। একজন গাড়ি চালকের এমন সম্পদের বিবরন দেখে সমাজের অনেক মানুষ আক্ষেপ করে ড্রাইভার হওয়ার মনোবাসনা ব্যক্ত করেছেন। এবার তার নানা অনিয়ম এবং সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে প্রকাশ্যে।
নাম তার আবদুল মালেক ওরফে বাদল। পেশায় গাড়িচালক বাদল, চাকরি করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। বাদলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে সাপ পেয়ে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢাকায় তার দুটি সাততলা ভবন, নির্মাণাধীন একটি দশ তলা ভবন, জমি, গরুর খামার খুঁজে পেয়েছে। সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে মালেককে। মালেক গ্রেফতার হওয়ার পর বাড়ির রাজকীয় ডিজাইনের দরজার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। শুধু দরজা নয় আরো অনেক কিছুই আছে যা দেখে সবার চোখ ছানাবড়া! সামাজিক মাধ্যম জুড়ে এখন তারই সম্পদের চর্চা। অনেকেই ড্রাইভার হওয়ার মনোবাসনাও পুষেছেন।

বাদলের যেখানে যত সম্পত্তি
তার স্ত্রী দুজন। প্রথম স্ত্রী নার্গিস আক্তারের নামে তুরাগ এলাকার দক্ষিণ বামারপাড়া রমজান মার্কেটের উত্তরপাশে ছয় কাঠা জায়গার ওপর সাত তলার দুটো আবাসিক ভবন আছে। নাম হাজী কমপ্লেক্স। এতে ফ্ল্যাট সংখ্যা ২৪টি। ওই ভবনের সামনে আছে ১০-১২ কাঠার আরেকটি প্লট। ভবনের তৃতীয় তলায় তিনি সপরিবারে থাকেন। বাকি ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া আছে। বড় মেয়ে ’বেবি’র নামে দক্ষিণ কামারপাড়ার ৭০ রাজাবাড়ি হোল্ডিং এ ১৫ কাঠা জায়গার ওপর ইমন ডেইরি ফার্ম নামে একটি গরুর ফার্ম আছে। এতে ৫০টি বাছুরসহ গাভী আছে। এর বাইরে ২৩, ফ্রি স্কুল রোড, হাতিরপুলে পৈতৃক সাড়ে চার কাঠা জায়গার ওপর দশতলা নির্মাণাধীন ভবন আছে। ভাই আবদুল খালেকের সঙ্গে বিরোধের কারণে ভবনটির নির্মাণকাজ আদালতের নির্দেশে বন্ধ আছে।

কিভাবে এত সম্পদের মালিক এই বাদল?
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, বাদল বরাবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ চিকিৎসক নেতাদের আনুকূল্য পেয়েছেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া খাতুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইব্রেরিতে কাজ করেন। আবদুল মালেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ড্রাইভারস অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন তৈরি করে নিজেই সংগঠনের সভাপতি পদে বসেছেন। গাড়িচালকদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি তার নিয়ন্ত্রণে। চিকিৎসকদের বদলি ও পদোন্নতি এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগে তার হাত আছে বলে অভিযোগ আছে। এক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেই তিনি তার পরিবারের সাতজনকে চাকরি দিয়েছেন।
অধিদপ্তরে এখন অফিস সহকারী পদে কাজ করেন আবদুল মালেকের মেয়ে নৌরিন সুলতানা বেলি। এর বাইরে ভাই আবদুল খালেক অফিস সহকারী পদে, বড় মেয়ে বেবির স্বামী রতন অধিদপ্তরের ক্যানটিন ম্যানেজার, ভাগনে সোগেল শিকারী গাড়িচালক, ভায়রা মাহবুব গাড়ি চালক এবং নিকটাত্মীয় কামাল পাসা অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করছেন।

প্রসঙ্গত, সমগ্র দেশ জুড়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে শুধু আবদুল মালেকই নয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যপক সাড়া জাগিয়েছে তার বাড়ির একটি দরজা। ঐ দরজাটিতে কারুকাজে পরিপূর্ন। একজন সামান্য গাড়ি চালকের সম্পদের তালিকা দেখে দেশবাসীর চোখ ছানাবরা। এমনকি তাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে নানা ধরনের প্রশ্ন।