দীর্ঘ দিন ধরে ব্যপক আলোচনায় ছিলেন অনলাইন ভিত্তিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি। তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটির সিইও টাকা আর্থসাৎ করেছে বলে ও অভিযোগ রয়েছে। এরই ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এবং প্রকাশ্যে আসে তাদের সকল কর্মকান্ড। গত বৃহস্পতি বার আটক হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক এবং চেয়ারম্যান। এরই ভিত্তিতে এবার প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহক এবং সেলারদের উদ্দেশ্য জরুরি নোটিশ প্রদান করেছে।
গ্রাহক ও সেলারদের উদ্দেশ্য অফিস কার্যক্রম সংক্রান্ত জরুরি নোটিশ জারি করেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ইভ্যালির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে বলা হয়, সম্মানিত গ্রাহক এবং সেলার, আপনাদের জন্যই আমাদের সকল আয়োজন। আর তাই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, আপনাদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার লক্ষ্যে, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ রোজ শনিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালির কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ নিজ নিজ বাসা থেকে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ’হোম অফিস’ পদ্ধতিতে ইভ্যালির সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলমান থাকবে। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের একান্তভাবে কাম্য। ইভ্যালির উপর আস্থা রাখুন, পাশে থাকুন। আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

এর আগে শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১টা ১৮ মিনিটে ইভ্যালির ফেসবুক পেজে এক জরুরি নোটিশ দিয়ে ’ইভ্যালি টি-টেন’ অফারের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। নোটিশে ইভ্যালি জানায়, ’১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১-এর টি-টেন-এ আপনাদের রেসপন্সে আমরা অভিভূত। আমাদের পাশে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদের প্রধান দুজন সিগনেটরি- সিইও এবং চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে, আমাদের সেলারদের রেগুলার বিল দিতে পারছি না। এজন্য আমাদের স্বাভাবিক ডেলিভারি কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। তাই আপনাদের করা ১৭ সেপ্টেম্বরের টি-টেন-এর সব অর্ডার আপাতত রিকোয়েস্ট হিসেবে জমা থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই আপনাদের টি-টেন-এর সব অর্ডার কনফার্ম করা হবে। অর্ডার কনফার্ম হলেই আপনারা পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় একটি মামলা হয়। আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর বিকেলেই রাসেলকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। পরে তাদের র‍্যাব সদরদফতর নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রাসেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ইভ্যালির গ্রাহক সংখ্যা ৪৪ লাখেরও বেশি। শিশুদের নানা পণ্যের ব্যবসা ছেড়ে সামান্য পুঁজি নিয়ে রাসেল ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির দায় ছিল ৪০৩ কোটি টাকা, যেখানে তাদের সম্পদ ছিল ৬৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন সংস্থার এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে গ্রেফতার রাসেল র‍্যাবকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম ইভ্যালির সিইও ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানকে তিন দিনের রি/মা/ন্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।

প্রসঙ্গত, বর্তমান সময়ে দেশে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ। প্রকৃত অর্থে দেশে অনলাইন ভিত্তিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গুলোর বিরুদ্ধে কোন নীতিমালা না থাকায় প্রতিষ্ঠান গুলো বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করছে এবং গ্রাহকদের ঠকাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। এবং এই ক্ষেত্রে জারি করেছে বেশ কিছু নীতিমালা।