দেশের গন্ডি পেরিয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য প্রতি বছর অসংখ্য বাংলাদেশী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামি-দামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক চলমান সংকটের মুখে পড়ে বিপাকে পড়েছে বিদেশে বাসবাসকারী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কোভিড১৯ ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলার জন্য জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করছে জার্মান শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই সুবিধার আওতাভূক্ত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা।
করোনার সংকট মোকাবিলায় জার্মানি অন্যান্য দেশের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে প্রাননাশের হারও কম। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে অ্যাঙ্গেলা মার্কেল সরকার। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি, বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের জন্যও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জার্মান সরকার।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সঙ্কট সামাল দিতে এরইমধ্যে নানা ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে জার্মানি। বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিধর এই দেশটি, ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে বিলিয়ন ইউরোর সুদবিহীন প্রণোদনা।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি, জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে বিশেষ সুবিধা। তারা যাতে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন, সে জন্য ৬৫০ ইউরো বা ৬৫ হাজার টাকা ঋণ সহায়তা দিচ্ছে জার্মান শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত অন্যান্য দেশের মতো, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন জার্মান শিক্ষা ও গবেষণামন্ত্রী আনিয়া কার্লিচেক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনা মোকাবিলায় মূল চালিকা শক্তি অর্থনীতিকে বাঁচাতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুসংহত রাখতে এই প্রনোদনা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এদিকে সংক্রমণ অব্যাহত থাকলেও, স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রবাসীরাও রয়েছেন সচেতন।

প্রসঙ্গত, কোভিড১৯ ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারিতে গোটা বিশ্ব বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির কবলে পড়েছে। উল্লেখযোগ্যে ভাবে খাদ্যে, অর্থ, এবং শিক্ষা খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বের দরিদ্র দেশ গুলোর পাশাপাশি উন্নত অনেক দেশও এই সংকটের মুখে পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নানা পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। এবং সেই ধারাবাহিকতায় কাজ করার চেষ্টা করছে দেশ গুলো।