বর্তমান সময়ে দেশের শিক্ষা কার্যক্রম থমকে গেছে। এতে করে বিপাকে পড়েছে অসংখ্য শিক্ষার্থীরা। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয় হতাশ ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকরাও। এই সকল সংকটের মূলে প্রাননাশকারী কোভিড১৯ ভাইরাস। এই প্রাননাশকারী ভাইরাস শুধু বাংলাদেশেই নয় গোটা বিশ্বের অসংখ্য দেশে ব্যপক বিস্তার লাভ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে চলমান এই সংকট নিয়ে এক বার্তা প্রদান করেছেন শিক্ষাবিদরা।
করোনার কারণে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষা জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন, হতাশ ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ঘরবন্দি জীবনে আর পড়ায় মন বসছে না বেশিরভাগ ছেলে মেয়ের। পড়াশোনার জন্য পাচ্ছে না সঠিক দিক নির্দেশনা। যদিও বিকল্প হিসেবে শহুরে বিদ্যাপীঠগুলো অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নিলেও সুযোগ-সুবিধার অভাবে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী তা থেকে বঞ্চিত। এ অবস্থায় শিক্ষা খাতে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করে, সবার জন্য শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা না গেলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঝড়ে পড়বে বলে আশংকা শিক্ষাবিদদের। গেল ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস সং/ক্র/ম/ণ শনাক্তের পর ১৯ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কয়েক দফা বাড়িয়ে সবশেষ ছুটির মেয়াদ ছিল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। আর গেল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি তেসরা অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানানও হয়। সে সঙ্গে পিইসি ও এবতেদায়ির পর এ বছরের জেএসসি জেডিসি পরীক্ষা না হওয়ার কথা জানানো হয়। অন্যদিকে পরীক্ষা হওয়া ও না হওয়ার দোলাচলে দিন কাটছে এপ্রিলে স্থগিত হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের পরীক্ষা হবে কি হবে না তা নিয়ে আমারা দুশ্চিন্তায় আছি। পরীক্ষার চিন্তা, ভর্তির চিন্তাসহ স্কুল কলেজ খোলা নিয়ে আসলে একটা মানসিক চাপের মধ্যে আছি। আবার ২০২১ সালের প্রস্তুতি নেয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও আছে, দুশ্চিন্তায়। সব মিলিয়ে, শিক্ষা জীবন নিয়ে আতংক ভর করেছে শিক্ষার্থীদের মনে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামী বছরে আমাদের এসএসসি পরীক্ষা কবে হবে তারও কোনও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। স্কুল, কোচিং, প্রাইভেট সব কিছু বন্ধ এ অবস্থায় পড়ালেখার অনেক সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া অনলাইন ক্লাস করতে আমাদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন, অভিভাবকরাও। অভিভাবকরা বলেন, ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাওয়া, পরে বাড়িতে এসে হোম ওয়ার্ক করা। তারা এই নিয়মের মধ্যে থাকা হচ্ছে না। এটা সব চেয়ে বড় সমস্যা। অনলাইনে ক্লাস করার সময় অপ্রয়োজনীয় কথা বলছে। তারা কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে।

বিকল্প হিসেবে সংসদ টিভিতে ক্লাস নেয়া ও বিভিন্ন বিদ্যাপীঠ অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নিলেও সুযোগ-সুবিধার অভাবে তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বেশিরভাগ শিক্ষার্থী। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, আমি যদি বিশেষ কোনও স্যারের লেকচার শুনতে চাই তাহলে আমার কোনও ব্যয় হবে না। অথবা মোবাইল কোম্পানি গুলোর সঙ্গে সরকার খুবই কম মূল্যে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সুবিধা দেয়া যায় কি না তা দেখতে হবে। করোনাকালে শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত প্রণোদনা দেয়া না হলে, ভবিষ্যতে জাতিকে এর মূল্য দিতে হবে বলেও আশংকা, তার। অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ আরও বলেন, দীর্ঘদিন ছেলে মেয়েরা পড়ালেখা না করার ফলে তাদের ঝরে পরারও সম্ভাবনাও রয়েছে। এই খাতে যদি আমরা ভালো করতে না পারি। তাহলে আমাদের যে স্বপ্ন আমরা মধ্যমায়ের দেশ হব, উচ্চ আয়ের দেশ হব সেগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে। পড়াশোনার আনন্দের কাছে পরাজিত হবে করোনার আতংক, এমন প্রত্যাশায় দিন কাটাচ্ছেন সবাই।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখনও বিদ্যমান থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে বাংলাদেশ সরকার সকল ধরনের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। তবে করোনা ভাইরাসের পরিস্তিতির উপর নির্ভর করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করার কথাও জানিয়েছে সরকার। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সকল সংকট নিরসনের জন্য কাজ করছে সরকার।