বাংলা রুপালী চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম স্বনামধন্য অভিনেত্রী আফরোজা সুলতানা রত্না। চলচ্চিত্র জগতে যিনি শাবানা নামেই অধিক পরিচিত। চলচ্চিত্র জগতে তার অভিষেক ঘটে ১৯৬২ সালে ’নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে। এর পরপরই ধীরে ধীরে তিনি সারাদেশে চিত্র নায়িকা হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তার অভিনীত প্রত্যেকটা চলচ্চিত্র দর্শকদের কাছে দারুন জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে এক পর্যায়ে বাংলার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী চলচ্চিত্র থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন। এর পরপরই তিনি স্বামী সন্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হন।
কিন্তু কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা শাবানা অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার পর ঢাকার চলচ্চিত্র জগতের এমন ’দুরবস্থা’ কল্পনাও করতে পারেননি বলে জানালেন তার স্বামী প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক।

নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে অভিনয় জগতকে বিদায় জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বামী-সন্তান নিয়ে থিতু হন শাবানা। প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে প্রায় তিন’শর মতো চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি।

কোটি দর্শকের হৃদয়ের মনিকোঠায় ঠাঁই করে নেওয়া শাবানা অভিনয় ছাড়ার দুই দশক পরও চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি তাকে হারানোর ’ক্ষত’ সেরে উঠতে পারেননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন তার স্বামী ওয়াহিদ।

পারিবারিক কাজে সপ্তাহ খানেক আগে ঢাকায় এসেছেন শাবানা ও ওয়াহিদ সাদিক; সপ্তাহ দুয়েক পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন তারা।

এক সাক্ষাৎকারে ওয়াহিদ সাদিক বললেন, "শাবানা চলে যাওয়ার পর ইন্ডাস্ট্রির এই দুরবস্থা হবে-সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। শাবানা অভিনয় থেকে তো অবসর নিতেই পারেন তাই বলে আরেকজন সিনেমা করবে না? সরকারের একজন সচিব চলে গেলে তো আরেকজন এসে দায়িত্ব নেয়; সিনেমায় এমনটা হচ্ছে বলেই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না।"

শাবানা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ’অবসর জীবন’ কাটাচ্ছেন বলে জানালেন তার স্বামী।

"সেই শৈশব থেকে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শাবানা। নিজেকে দেওয়ার মতো সময় পাননি। তার বিরতি অবসর দরকার ছিল। নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। এই অবসরটা আরও আগে দিতে পারলে ভালো হতো কিন্তু অভিনয়ের কারণে পারেনি।"

শাবানা অভিনয় ছাড়ার পর তার মতো ’আরেকজন’ অভিনয়শিল্পী তৈরি করতে না পারার কারণ হিসেবে পেছনে ইন্ডাস্ট্রির ব্যর্থতাকে তুলে এনে তিনি বললেন, "একজন অবসর নিলে তার জায়গায় আরেকজনকে তৈরি করতে পারেনি কেন? এটা তাদের ব্যর্থতা। ভালো ভালো শিল্পী ও ডিরেক্টর তৈরি করা দরকার ছিল। এর জন্য পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা করতে হবে।"

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ১৯৭৩ সালে সরকারি কর্মকর্তা ওয়াহিদ সাদিকের সঙ্গে বিয়ে-বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর শাবানার নিজস্ব প্রযোজনা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এস এস প্রোডাকশনের দেখভালের দায়িত্বে আসেন স্বামী ওয়াহিদ। ’মাটির ঘর’, ’স্বামী কেন আসামী’, ’মেয়েরাও মানুষ’সহ আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি।

শাবানা-সাদিকের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে; তারাও যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন। বড় মেয়ে ফারহানা সাদিক এমবিএ, সিপিএ করেছেন, ছোট মেয়ে সাবরিনা সাদিক ইয়েল ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে শিকাগোর হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন। একমাত্র ছেলে শাহীন সাদিক নিউজার্সির রাদগার্স ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় এক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালের তার অভিনীত ’জননী’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দারুন জনপ্রিয়তা পান তিনি। এ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর তাকে আর পেছন দিকে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে এ সাফল্য ধরে রেখে তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দারুন জনপ্রিয়তা পয়েছেন।কিন্তু চলচ্চিত্রে জগত থেকে অবসর নেওয়ার পরপরই বাংলা চলচ্চিত্রে দুরবস্থা নেমে আসে। তিনি চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা দেখা দিয়েছে তা এখনও পূরন হয়নি।