আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল নাগরিক ঐক্যকে ৫টি আসন ছেড়ে দিল বিএনপি। অন্যদিকে আ স ম রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জেএসডি) ৫টি আসন দিলো বিএনপি।
আজ শনিবার বিকালে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের মাইকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। এছাড়া দলটির হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এসএম আকরাম, রংপুর-৫ মোফাখখারুল ইসলাম নবাব, রংপুর-১ শাহ মো. রহমতউল্লাহ ও বরিশাল–৪ কে এম নুরুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।
এছাড়া শনিবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন যারা: পটুয়াখালী-২ আসনে শহিদুল আলম তালুকদার, ময়মনসিংহ-১ আসনে আলী আজগর, গাইবান্ধা-২ আসনে আব্দুল রশিদ সরকার, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে গাজী মনির, কুমিল্লা-৬ আসনে হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন, নেত্রকোনা-৫ আসনে আবু তাহের তালুকদার ও জামালপুর-১ আসনে রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
জেএসডির মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন-লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আ স ম আব্দুর রব, কুমিল্লা-৪ আসনে আব্দুল মালেক রতন ও ঢাকা-১৮ আসনে শহিদুল উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনেও জেএসডির প্রার্থী লড়বেন বলে জানানো হয়েছে। তবে তার নাম ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে মনোনয়ন না দেওয়ায় খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছেন দলটির তিনজন নেতার সমর্থকরা। সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার ও গোপালগঞ্জের সেলিমুজ্জামান সেলিমের কয়েক হাজার সমর্থক শনিবার বিকালে এই হামলা চালিয়েছে।
বেলা সাড়ে ৫টার দিকে কার্যালয়ের সামনে এসে ঢিল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিক্ষোভ করছে তারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা ওই কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
এহছানুল হক মিলন চাঁদপুর-১, তৈমুর আলম নারায়ণঞ্জ-১ এবং সেলিমুজ্জামান গোপালগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
কয়েক হাজার নেতাকর্মী এসে বিএনপি কার্যালয় ঘেরাও করে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কার্যালয় লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে। কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে তারা। তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে কার্যালয়েল জানালার কাঁচ ভেঙেছে। এই কার্যালয়ে হামলা-ভাংচুরের আগে দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেন কারাবন্দি এহছানুল হক মিলনের কর্মী-সমর্থকরা। পরে তারা সেখানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে দেখা করে ক্ষোভের কথাও জানান।
চাঁদপুর-১ আসনে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মিলনকে না দিয়ে এবার বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে মোশাররফ হোসেনকে। বিক্ষুব্ধদের একজন আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কচুয়া থেকে মিলনকে চাই। যাকে দেওয়া হয়েছে সে একজন আদম ব্যাপারী। ৩৩ বছর তাকে এলাকায় দেখিনি। এলাকার লোকজনের সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই। সে মনোনয়ন পায় কীভাবে?
এবাদুর রহমান নামে আরেকজন অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এহছানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে সরকার ৩৩টি মামলা দিয়েছে। সে তার সব কিছু ত্যাগ করেছে দলের জন্য। কিন্তু তাকে মনোনয়ন না দিয়ে টাকা খেয়ে একজন ভুয়া লোককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমরা এটা মানব না।
মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে ক্ষোভ-হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুও। শুক্রবার বিকালে তার এলাকা মানিকগঞ্জ-১ আসনে এসএ জিন্নাহ কবিরকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার পর রাতেই ছোট বোন দেলোয়ারা বেগম পান্নাকে নিয়ে গুলশানের এই কার্যালয়ে আসেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের বাধা পেয়ে কেঁদে ফেলেন দুই ভাই-বোন। ডাবলু অনুসারীরা এ সময় হৈ চৈ করেন।