হতাহতের ঘটনাসহ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছে জাপান। সফররত জাপানের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ বিষয়ক মন্ত্রী তোশিমিতসু মোটেগি মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে এ উদ্বেগের কথা জানান। মোটেগি একইসাথে মানবসম্পদ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও কর সংস্কারবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
জাপান দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থবার দায়িত্ব নেয়ায় শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান মোটেগি। তিনি বলেন, সব কয়টি প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে স্বাগত জানায় জাপান। কিন্তু একইসাথে বেশ কিছু হতাহতের ঘটনাসহ নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি নানাবিধ অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে জাপান আশা করে, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক উন্নয়নের পথে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রচেষ্টায় জাপান সমর্থন দিয়ে যাবে।

এ দিকে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের খবরে জানানো হয়েছে, সফররত জাপানের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণবিষয়ক মন্ত্রী তোশিমিতসু মোটেগি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে জাপান। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে জাপান আগ্রহী। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

মোটেগি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্পর্কের গোড়া পত্তন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের চলমান মেয়াদে বাংলাদেশ এবং জাপানের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে।

জাপানের মন্ত্রীকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের পুরনো বন্ধু হিসেবে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপান সহযোগিতা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য জাপান একটি মডেল।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং প্রতিটি গ্রামকে শহরের নাগরিকসুবিধা দিয়ে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী আইটি পার্কগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ এবং গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের জন্য জাপানের সহযোগিতা চান। তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবিকা নেয়ার জন্য জাপানের মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। জাপানের মন্ত্রী এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেন।
বৈঠকে শেখ হাসিনা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের পুনরুল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।