স্ত্রী কামরুন নাহারের সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় এক ঘরে স্বামী-স্ত্রী দুইজনই সচিব হয়েছেন। স্বামী খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই সিনিয়র সচিব হিসেবে সেতুবিভাগে পদোন্নতি পান। আজ স্ত্রী কামরুন নাহার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হলেন।
আজ মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক আদেশে কামরুন নাহারকে রাষ্ট্রপতি কোটায় প্রেষণে সচিব নিয়োগপূর্বক মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করে এ আদেশ জারি করে।

এক নজরে কামরুন নাহার: বিসিএস (তথ্য-সাধারণ) ক্যাডারের ১৯৮৪-ব্যাচের কর্মকর্তা কামরুন নাহার এর আগে তথ্য অধিদফতরের প্রধান ছাড়াও গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর কামরুন নাহারের পিআরএলে যাওয়ার কথা রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে ১৯৬১ সালের ৩০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন কামরুন নাহার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি ছাড়াও তিনি সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স করেছিলেন।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম: ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক আদেশে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামকে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা দিয়ে সেতুবিভাগের সিনিয়র সচিব পদে নিয়োগ দেয়।

২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার সিনিয়র সচিবের পদ চালু করে। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

খন্দকার আনোয়ারুল ২০১১ সালের ১৩ নভেম্বর সেতু বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি সচিব পদে পদোন্নতি পান। তিনি পদাধিকার বলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক।

১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এবং উপসচিব, ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরের পরিচালক, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বিশ্বব্যাংক, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাতীয় প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে।

সরকারি কাজে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, নরওয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিশর, তুরস্ক, সৌদি আরব, চীন, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং কেনিয়া সফর করেছেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগ হতে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ডেভলপমেন্ট প্ল্যানিংয়ের উপরে তার একটি পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমাও রয়েছে।

তিনি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, এইচডি স্কিল ফর ফাঙ্খশনাল ম্যানেজ, প্রাইভেট সেক্টর সিড ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি বৈদেশিক প্রশিক্ষণ কোর্স সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন।
পারিবারিক জীবনে তারা দুই পুত্র সন্তানের জনক।