বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের বিমান ’ময়ূরপঙ্খী’ ছিনতাইচেষ্টাকারী পলাশ আহমেদের (২৪) মরদেহ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ফিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির সামনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে চট্টগ্রাম থেকে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পলাশের মরদেহ নিজ বাড়ি সোনারগাঁয়ের ফিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে নিয়ে আসা হয়।
তার আগে সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পতেঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল নারায়নগঞ্জ থেকে পলাশের বাবাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। পরে রাত ১২টার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে পতেঙ্গা থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে পিয়ার জাহান সরদার ছেলের লাশ গ্রহণ করেন।
দাফনের পর নিহত পলাশের বাবা পিয়ার জাহান সরদার বলেন, ছেলের লাশ দেখা বা গ্রহণ করার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। স্বজনদের চাপে ও প্রশাসন তাকে চট্টগ্রাম গিয়ে প্রশাসনের লোকজনের কাছ থেকে পলাশের মরদেহ গ্রহণ করতে হয়।
তিনি জানান, পলাশের মরদেহ নিয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়িতে ফেরেন তিনি। এরপর সকাল ৯টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে জানাজা শেষে পলাশের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, বিমানের বোয়িং-৭৩৭ মডেলের ময়ূরপঙ্খি উড়োজাহাজটি (বিজি-১৪৭ ফ্লাইট) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১৩৪ যাত্রী ও ১৪ ক্রু নিয়ে রোববার বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল।
ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পর পরই উড়োজাহাজটি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার টান টান উত্তেজনার পর উড়োজাহাজ ছিনতাইচেষ্টার অবসান ঘটে।
পরে রোববার সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাত্র ৮ মিনিটের কমান্ডো অভিযানে বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারী অস্ত্রধারী যুবক নিহত হন।
সোমবার সকালে এক মুঠোফোন বার্তায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে পলাশের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার বার্তা জানানো হয়। র‌্যাব জানায়, ছিনতাই চেষ্টাকারী ওই যুবকের নাম মো. পলাশ আহমেদ। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে। সে বিমানের ঢাকা-চট্টগ্রাম অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী ছিল।
ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পলাশের পরিচয় জানা গেছে। র‌্যাবের দেয়া তথ্যানুযায়ী, পলাশের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুরের দুধঘাটা গ্রামে। তার বাবার নাম পিয়ার জাহান সরদার। তিনি মুদি দোকানি। ওই উড়োজাহাজের ১৭/এ নম্বর আসনের যাত্রী ছিল পলাশ আহমেদ। সে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটের যাত্রী ছিল।
ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা বাংলাদেশ বিমানের ময়ূরপঙ্খি উড়োজাহাজের (বিজি-১৪৭ ফ্লাইট) যাত্রী তালিকায় তার নাম উল্লেখ ছিল AHMED/MD POLASH। সিট নম্বর ১৭এ। পলাশ আহমেদ ঢাকা-চট্টগ্রাম অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী ছিল। সূত্র:purboposhchim