রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারে এমপিপুত্র সাবাব চৌধুরীর বিলাসবহুল অডি-৭ মডেলের প্রাইভেটকার চাপায় নিহত সেলিম ব্যাপারী (৫৫) মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলা ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে তুলে নেয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন নিহতের পরিবার। সাবাব নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহত সেলিম ব্যাপারীর বোনের স্বামী আবদুল আলিম বলেন, সেলিমের স্ত্রী চায়না ব্যাপারীর ব্যাংক এ্যাকাউন্টে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আর প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এমপি সাহেব। ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন বলেছেন।
আবদুল আলিম বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে মহাখালীর ডিওএইচএসে নায়ার প্রোপার্টিজের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেনের উপস্থিতিতে ওই আপস বৈঠক হয়। সেলিম ব্যাপারীর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এমপি একরামুল করিমের পক্ষে কয়েকজন সেখানে ছিলেন।
তিনি বলেন, এমপির পক্ষে যারা এসেছিলেন, তারা আমাদের ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। পরে এমপি সাহেবের সঙ্গেও আমরা দেখা করেছি। ওই মামলাটি এখন আমরা তুলে নেব।
এর আগে ৩০ লাখ টাকা পেলে মামলা তুলে নেওয়ার নিবেন বলে সমঝোতার প্রস্তাব দেয়া হয়। নিহত সেলিম ব্যাপারী যে কোম্পানির গাড়ি চালাতেন, সেই নাওয়ার প্রোপার্টিজের মালিকপক্ষ নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ৩০ লাখ টাকার অঙ্কের প্রস্তাব দেন ।
নিহত সেলিম দুই যুগের বেশি সময় ধরে নাওয়ার প্রোপার্টিজের গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করে আসছিলেন। সেই নাওয়ার প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেন জানান, এমপি একরামুল করিম চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ফোন করে ’সমঝোতার প্রস্তাব’ দিয়েছেন। এমপি চান, নিহতের পরিবারের পাশে থাকার বিনিময়ে তারা কাফরুল থানায় করা মামলা প্রত্যাহার করে নেবে। ফোনে কথা বলার পর তাদের বারিধারার অফিসে এমপি লোক পাঠিয়েছিলেন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনার জন্য।
এ সময় সাংসদ বা তার পরিবার বা পুলিশের কেউ ওই বৈঠকে ছিলেন না। তবে নিহত সেলিম ব্যাপারীর স্ত্রী, মেয়ে, মেয়ের জামাইসহ কয়েকজন আত্মীয় সেখানে ছিলেন। সেলিম ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার পরিবার যেন বাঁচতে পারে সেজন্য ৩০ লাখ টাকার একটা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে এমপি সাহেবকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান ইমরান হোসেন।
এর আগে গত ১৯ জুন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহাখালীর ফ্লাইওভারে সড়ক দুর্ঘটনার এ ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর পথচলতি এক মোটরসাইকেলচালক গাড়িটির পিছু নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর ন্যাম ফ্ল্যাট (সাংসদদের আবাসিক এলাকা) পর্যন্ত পৌঁছান। সেখানে তরুণ গাড়িচালক নিজেকে সাংসদের ছেলে দাবি করে ওই মোটরসাইকেলচালককে মারধর করেন। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলকে দেওয়া ওই মোটরসাইকেলচালকের সাক্ষাৎকারটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে গাড়ির মালিক ওই সাংসদের স্ত্রী কামরুন্নাহার শিউলি দাবি করেন, তখন গাড়িটি তাঁর ছেলে চালাচ্ছিলেন না। চালাচ্ছিলেন গাড়িচালক নুরুল আলম। আলম গাড়ি নিয়ে উত্তরায় তাঁদের এক স্বজনের কাছে যাচ্ছিলেন। ফেরার পথে দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রো ঘ ১৩-৭৬৫৫ নম্বরের গাড়ির ধাক্কায় সেলিম ব্যাপারী নিহত হন। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ১৮ মার্চ গাড়িটি কেনেন তিনি।