বাংলাদেশের কারাবন্দী ফটোসাংবাদিক শহিদুল আলমকে মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার ভাগনি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। লন্ডনের অনলাইন দ্য টাইমস পত্রিকা আজ (মঙ্গলবার) এ খবর জানিয়েছে।
\’এমপি আর্জেজ আন্ট টু রিলিজ বাংলাদেশ ফটোগ্রাফার\’ শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের আম‌লে শহিদুল আলমের আটক থাকা \’খুবই উদ্বেগজনক এবং অবিলম্বে এই পরিস্থিতির ইতি ঘটা উচিত\’ বলে মনে করেন টিউলিপ সিদ্দিক।

টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটেনে হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ট কিলবার্ন আসনে বিরোধী লেবার দলের এমপি। শহিদুল আলম ব্রিটেনে নিয়মিত প্রদর্শনী করেন। ওই রিপোর্টে তাকে একজন ফটোসাংবাদিক ও আর্টিস্ট হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়েছে।

টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, \’বাংলাদেশকে তার নিজের নাগরিকদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। আশা করি আমাদের পররাষ্ট্র দফতর বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কাছে এ ব্যাপারে দৃঢ় বার্তা পাঠাবে।\’



দ্য টাইমস বলছে, শহিদুল আলমকে আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে অনেকেই নিন্দা জানিয়েছেন। এই তালিকায় যুক্ত হলেন টিউলিপ সিদ্দিকও। এর আগে শহিদুলের কারামুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন নোবেল বিজয়ী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেত্রী, শিল্পী, লেখক ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা।

টিউলিপ সিদ্দিকের আগে এ সপ্তাহে তার মুক্তি দাবি করেছেন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেন। তিনি শহিদুল আলমের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন। এ ছাড়া, তার মুক্তি দাবি করেছেন স্যার রিচার্ড ব্রানসন, শ্যারন স্টোন, রিচার্ড কার্টিজ, আর্চ বিশপ ডেসমন্ড টুটুসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি।

উল্লেখ্য, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে রিপোর্ট করার কারণে গত ৫ আগস্ট ৬৩ বছর বয়সী শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। আল জাজিরা টেলিভিশনকে ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে সাক্ষাৎকার দেয়ার পর তার বাসভবনে অভিযান চালায় ৩০ জনের বেশি নিরাপত্তা কর্মকর্তা। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অধীনে। এ আইনটিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অতিশয় কঠোর হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। শহিদুল আলম অভিযোগ করেছেন, আটক করে তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে।#

পার্সটুডে