গত বছর পিঁয়াজ আমদানি-রফতানি কর্মকান্ড নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশ ভারত পিঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশের বাজের এক অস্তিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এবং মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল দাম। তবে সরকার পিঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য অন্য বেশ কয়েকটি দেশের কাছ থেকে আমদানি করেছে পিঁয়াজ। সাম্প্রতিক সময়ে কোন নির্দেশনা ছাড়াই ভারত আবারও বাংলাদেশে পিঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে এক সংকটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। তবে এবার আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়েছে পিঁয়াজ রফতানি বন্ধ করার কারন।
পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছে ভারত। দেশের তিনটি প্রধান স্থলবন্দর দিয়ে সোমবার ভারত থেকে কোনো পিঁয়াজ আসেনি। তবে পিঁয়াজ আসা কেন বন্ধ হলো এ বিষয়ে সকাল থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ কেউ বলতে পারেননি। দেরিতে হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের খবর জানিয়েছে ভারত। গতকাল সোমবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হলো, বিদেশে পিঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের মহাপরিচালক অমিত যাদব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯২ সালের ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সবধরনের পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকবে। তবে পিঁয়াজের কাঁটা টুকরা ও গুঁড়া এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পিঁয়াজের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে ভারত নিজ দেশের বাইরে পিঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট শংকর দাস জানিয়েছিলেন, কয়েকদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণে ভারতের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হওয়া অঞ্চলগুলো তলিয়ে গেছে। এছাড়া সেখানকার বাজারে পিঁয়াজের দামও বেড়েছে। নিজ দেশে পিঁয়াজের দাম ঠিক রাখতেই হয়তো তারা বাংলাদেশে পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার কল্যাণ মিত্র চাকমা জানান, ভারতের পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের কোনো নির্দেশনার খবর তিনি জানেন না। সেসময় একই কথা বলেছিলেন ভোমরা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার পারভেজ আমানও। গত বছরও ভারত হুট করে পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছিল। এতে বাংলাদেশে পিঁয়াজের দাম বেড়েছিল হুহু করে। সেসময় খুচরা বাজারে রেকর্ড ৩০০ টাকা কেজি দরে পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। এবার পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পরপরই দেশের খুচরা বাজারে দাম বাড়তে শুরু করেছে। ভারতীয় পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে। আর দেশি পিঁয়াজের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ নিজ দেশের প্রয়োজনে এবং অনেক ধরনের পন্যের চাহিদা পূরনের জন্য বিশ্বের বেশ কয়কেটি দেশ থেকে আমদানি-রফতানি করে থাকে। এক্ষেত্রে প্রতিবছর ভারত থেকে অসংখ্য পন্য আমদানি করে থাকে বাংলাদেশ। এমনকি বাংলাদেশ ও অনেক ধরেনর পন্যে রফতানি করে থাকে ভারতে। তবে বর্তমান সময়ে চলমান করোনা পরিস্তিতির জন্য দুই দেশের আমদানি-রফতানি সীমিত পরিসরে পরিচালনা হচ্ছে।