আধুনিক শহুরে জীবনে ডায়াবেটিস একটি প্রচলিত সমস্যা। জীবনযাপনের অনিয়মের ফলে এই রোগের প্রকোপ এখন বাড়ছে। গত কয়েক বছরে সারা বিশ্বের পাশাপাশি আমাদের দেশেও ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্য়া ক্রমাগত বৃদ্ধি পয়েছে। বিজ্ঞানের কল্যাণে প্রতিদিন অনেক অসাধ্য সাধিত হচ্ছে। প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকার পরিবর্তে আরামে ও আয়াসে কাটছে মানুষের জীবন। কায়িক পরিশ্রমের স্থান দখল করছে মানুষ নির্মিত যন্ত্র। এরই পরো ফল ডায়াবেটিস। আগের দিনে মানুষের কায়িক পরিশ্রম ছিল; সে জন্য ডায়াবেটিসের কথা শুনা যায়নি।
ডায়াবেটিস হল এক ধরনের মেটাবলিক ডিজঅর্ডার। শরীর যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না তখনই দেখায় দেয় এই রোগ। প্রসঙ্গত, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। আর এমনটা হলে শরীরে একে একে বাসা বাঁধতে শুরু করে নানান ধরনের জটিল রোগ। এই রোগ হলে বারে বারে প্রস্রাব চাপা, জল তেষ্টা বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ক্ষত শুকতে দেরি হওয়া এবং শরীরের নানা জায়গায় জ্বালা করার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

ডায়াবেটিস একটি মারাত্মক রোগ। কেউ কেউ একে অন্যান্য সকল মারাত্মক রোগের জননী বলে। কাঠের সাথে ঘুণের যে সর্ম্পক, শরীরের সাথে ডায়াবেটিসের সে সম্পর্ক। ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাড়াতাড়ি শরীর ভেঙ্গে পড়ে। আমাদের হার্ট, কিডনী, চোখ, দাঁত, নার্ভ সিষ্টেম-এ গরুত্বপূর্ণ অংগগুলো সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে।

ডায়াবেটিসের মতো মেটাবলিক ডিজঅর্ডারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘরোয়া চিকিৎসা দারুন কাজে আসে। কীভাবে বানাবেন এই ঘরোয়া ঔযধিগুলি তা জেনে নিন-

১। অ্যাপল সিডার ভিনেগার ও ক্র্যানবেরি:
আপেল সিডার ভিনেগারের সাথে জল এবং ক্র্যানবেরি রস মেশান। এর স্বাদ বাড়াতে আপনি এতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস যোগ করতে পারেন এবং এটি আপনি প্রতিদিন পান করুন। দেখবেন কিছুদিনের মধ্য আপনার ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে আসতে শুরু করেছে।

২। ঢেঁড়সের নির্যাস:
বলাই বাহুল্য, ঢেঁড়স অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি সবজি। এর ক্যালরির পরিমান ৩০। এতে আরও রয়েছে- ভিটামিন সি ২১ মিলিগ্রাম, ডায়েট্রি ফাইবার ৩ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৭.৬ গ্রাম, প্রোটিন ২ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, ফলেট ৮০ মাইক্রোগ্রাম ও ম্যাগনেসিয়াম ৬০ মিলিগ্রাম।

যা যা লাগবে-
১। ঢেঁড়স- দু’টি।
২। পানি- ২/৩ গ্লাস।
ঢেঁড়সের বোঁটা কেটে নিন। এবার ছোট ছোট করে টুকরো করে পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালবেলা ছেঁকে খালিপেটে পান করুন। নাস্তার আধঘণ্টা আগে পান করা ভালো।

আপনি ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন।