দেশে-বিদেশে বহুল আলোচিত ও সুপরিচিত মুখে পরিনত হয়েছে বাংলাদেশের লক্ষীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সহিদ ইসলাম পাপুল। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে অর্থ ও মা/নব/পা/চা/রের সাথে যুক্ত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থ ও মা/নব/পা/চা/রের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে কুয়েতের কারাগারে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন তিনি। এবং নতুন করে কুয়েতের সুপ্রিম কোর্ট পাপুলের আটকাদেশ আরো বৃদ্ধি করেছে।
কুয়েতে মা/ন/ব ও অবৈধ মুদ্রা পা/চা/রের অভিযোগে আটক বাংলাদেশের সাংসদ মোহাম্মদ সহিদ ইসলামের (পাপুল) আটকাদেশ আরও এক মাস বেড়েছে। গতকাল রোববার সকালে কুয়েতের সুপ্রিম কোর্টে আটকাদেশ পুনর্বিবেচনা বিষয়ক বিচারকের চেম্বারে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারা/গারে রাখার নির্দেশ দেন। কুয়েতের আরবি দৈনিক আল কাবাস এ খবর জানিয়েছে। কুয়েতে ৬ জুন আটকের পর থেকে এ নিয়ে পাঁচবার সাংসদ মোহাম্মদ সহিদের আটকাদেশ বাড়ানো হলো। ৯ আগস্ট সবশেষ তাঁকে আরও দুই সপ্তাহ অর্থাৎ ২৩ আগস্ট পর্যন্ত কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে প্রতিবারই তাঁর আটকাদেশ দুই সপ্তাহ করে বাড়ানো হচ্ছিল। এবার একসঙ্গে আটকাদেশের মেয়াদ এক মাস বাড়ল।

গতকাল আদালত সহিদ ইসলামের পাশাপাশি কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণবিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল শেখ মাজন আল-জারাহ এবং অন্য দুই কুয়েতি নাগরিক হাসান আবদুল্লাহ আল খাদের ও নওয়াফ আলী আল শালাহিকেও আটকাদেশ পুনর্বিচেনা বিষয়ক বিচারের চেম্বারে হাজির করা হয়। এ সময় বিচারক অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে অপারগতা জানিয়ে উল্টো আটকাদেশের মেয়াদ বাড়ান। এর মধ্যে অবশ্য মেজর জেনারেল শেখ মাজন আল-জারাহর আটকাদেশ আগামী দুই সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। অভিযুক্ত তিন কুয়েতি সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সহিদ ইসলামের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাঁকে অনৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মানব ও মুদ্রা পা/চা/রের অভিযোগে কুয়েতের ক্রি/মি/নাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সি/আই/ডি) কর্মকর্তারা ৬ জুন সহিদ ইসলামকে তাঁর বাসা থেকে আটক করে। এরপর গো/য়ে/ন্দা/দের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে সহিদ ইসলাম কুয়েতের রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী লোকজনকে ঘু/ষ দিয়ে অনৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মেজর জেনারেল মাজনসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। একাধিকবার সহিদ ইসলামের জামিন নাকচ করে আদালত ১৪ জুন তাঁকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছেন। এরই মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার চার্জ গঠন করা হয়েছে। কুয়েতের গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে গতকাল কথা বলে আভাস পাওয়া গেছে, মেজর জেনারেল শেখ মাজন আল-জারাহর বিরুদ্ধে মামলার শুনানি আগেই শুরু হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, পাপুলের অনিয়মের কর্মকান্ডে বাংলাদেশ নানা ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে দেশে-বিদেশে। এমনকি পাপুলকে কুয়েত সরকার কালো তালিকা হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করেছে। এছাড়াও পাপুলের দ্বারা কুয়েতে পরিচালিত সকল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাতিল করে দিয়েছে দেশটির সরকার। এমনকি বাংলাদেশ সরকারও তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তার সকল অপরাধ প্রমানিত হলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে বলে জানিয়েছেন স্বংয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।