ডাক্তারি একটি মহৎ পেশা হিসেবে বিবেচিত। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অনেক ডাক্তার দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার কাজের জন্য ব্যপক সফলতা এবং সম্মাননা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তেমনি একজন বাংলাদেশের প্রথম নারী ফিজিসিস্ট অধ্যাপক ড. হাসিন অনুপমা আজহারী। তিনি এই প্রথম কোন বাংলাদেশী হিসেবে ’মেডিকেল ফিজিসিস্ট’ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।
প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ’মেডিকেল ফিজিসিস্ট’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) শিক্ষক অধ্যাপক ড. হাসিন অনুপমা আজহারী। বিগত ২০ বছর যাবত এশিয়া-ওশেনিয়া অঞ্চলে মেডিকেল পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষা, পেশাদার বিকাশ, গবেষণার জন্য অসাধারণ প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ড. অনুপমা সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এশিয়া-ওশেনিয়া ফেডারেশন অব অর্গানাইজেশন ফর মেডিকেল ফিজিক্স (এএফওএমপি) এর বিশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২১ জনকে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

ড. অনুপমা জানান, এই অঞ্চলের দেশগুলোতে যারা এ বিষয়ে ভালো কাজ করেছেন, তাদের দেশের মেডিকেল ফিজিক্স সোসাইটি বা অ্যাসোসিয়েশনের কাছে নাম আহ্বান করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের সোসাইটি থেকে আমার নাম পাঠানো হয়। এরপর প্রায় ২ মাস বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মূল্যায়ন করে নির্বাচিতদের নাম প্রকাশ করা হলো।
এএফওএমপি সূত্রে জানা যায়, মনোনীতরা এশিয়া-ওসেনিয়া অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রচার, বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম সংগঠিত করা সহ বিজ্ঞানের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেন। একইসাথে তারা নিজের দেশ, জাতীয় মেডিকেল পদার্থবিদ সংস্থা এবং এএফওএমপিতে কাজ করেন। ফলে পেশা এবং সোসাইটির ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়।
এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য বিভিন্ন দেশের ১৪টি সংস্থা থেকে মোট ৩৬ জনের নাম পাঠানো হয়। প্রাপ্ত সকল প্রার্থীকে ৪টি বিভাগের অধীনে ৫০ পয়েন্ট স্কেল সহ মোট ২০০ পয়েন্টের মাঝে মূল্যায়ন করা হয়। অ্যাওয়ার্ড এন্ড ডীনস কমিটি (এএইচসি) স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রথম নারী ফিজিসিস্ট অধ্যাপক ড. হাসিন অনুপমা আজহারী। তিনি ২০১৮ সালে মেডিকেল ফিজিক্সে বিশেষ অবদানের জন্য আইডিএমপি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমান সময়ে তিনি বাংলাদেশের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ভৌত ও গাণিতিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন এবং মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।