বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটা অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে ভুল চিকিৎসা। আর এ ভুল চিকিৎসার কারনে প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। বিশেষ করে সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন জেলায় এ সব ধরণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিন্তু তার ভুল চিকিৎসায় যে মানুষটি মারা যাচ্ছে তার জীবনটা কি সে ফিরিয়ে দিতে পেরেছে? কিন্তু সরকার যদি এর প্রতি কোনো পদক্ষেপ নিত তাহলে এ ধরণের ঘটনা আর ঘটতো না। তাই সরকারকে এ ধরণের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।
এদিকে ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়াই কিডনি রোগের সফল চিকিৎসা করতে পারেন বলে হাইকোর্টে দাবি করেছেন সালাউদ্দিন মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি। তার এ দাবির বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্ট দিয়েছেন নাগরিক টেলিভিশনের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আব্দুন নূর তুষার।

তিনি লিখেছেন, ’’যে দেশে চেম্বারে ন্যূনতম চেয়ার না থাকলে ডাক্তারের জরিমানা ৫০ হাজার টাকা করতে সরকার আইন করে। সে দেশের আদালতে দাঁড়িয়ে একজন রসায়নবিদ দাবি করেন ডায়ালাইসিস ও ট্রান্সপ্ল্যান্ট ছাড়াই তিনি যে কোনো কিডনি রোগীকে মরণাপন্ন অবস্থা থেকেও সুস্থ করতে পারেন। এই দেশে ডাক্তারের দুর্দশা হবে না তো কার হবে? এটা কোয়াকেরই দেশ হবে। চিকিৎসা কার দরকার? উকিলের, রসায়নবিদের নাকি ডাক্তারের?’’
আব্দুন নূর তুষারের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি নিচে হু বহু তুলে ধরা হলো;

কার চিকিৎসা দরকার?
আদালতে দাঁড়িয়ে একজন রসায়নবিদ দাবী করলেন তিনি ডায়ালাইসিস ও ট্রান্সপ্ল্যান্ট ছাড়াই যে কোন কিডনী রোগীকে মরনাপন্ন অবস্থা থেকেও সুস্থ করতে পারেন। তিনি বললেন তিনি রোগীদের চিকিৎসা করে সুস্থ করেন। এক উকিল স্বাক্ষ্য দিলেন যে তার চিকিৎসায় রোগী ভাল হয়।যার চিকিৎসা করার লাইসেন্স নাই, তিনি সর্বোচ্চ আদালতে ঘোষনা দেন যে তিনি চিকিৎসা করেন।

আদালত তাকে কিছুই বলে না, উল্টো নোবেল পাওয়ার মতো ঘটনা বলে তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে যেতে বলে। এই দেশে রেজিস্ট্রেশন নং লিখতে হয় ডাক্তারকে। আর কোয়াক আদালতে বলে সে লাইসেন্স , ডিগ্রী , নং ছাড়াই চিকিৎসা করে। অথচ আদালতে দাঁড়িয়ে রসায়নবিদ বেআইনী চিকিৎসা করার ঘোষনা দিলে উকিল তার পক্ষে দাঁড়ায়। তার কোন সাজা হয় না।

আর সরকার আইন বানায়
চেম্বারে ন্যুনতম চেয়ার না থাকলে ডাক্তারের জরিমানা ৫০ হাজার , অনাদায়ে কারাদন্ড। এই দেশে ডাক্তার এর দুর্দশা হবে না তো কার হবে? এটা কোয়াকেরই দেশ হবে। চিকিৎসা কার দরকার ? উকিলের , রসায়নবিদের নাকি ডাক্তারের? নাকি..........?

গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানিকালে এমন দাবি করেন ওই ব্যক্তি।

আদালতে শুনানিকালে আইনজীবীদের বক্তব্যে কিডনি’র ব্যায়বহুল চিকিৎসা, ডায়ালাইসিস ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের বিষয়গুলো উঠে আসে। কিন্তু একপর্যায়ে কোর্ট রুমের শেষ বেঞ্চে বসে থাকা এক মধ্য বয়সী ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বলেন আমি কিছু বলতে চাই। এরপর তিনি আদালতের ডায়াসের কাছে এগিয়ে গিয়ে বলেন, ’মাই লর্ড, কিডনি চিকিৎসায় ডায়ালাইসিস কিংবা প্রতিস্থাপন কিছুরই দরকার নেই। আমি আমার ২০ বছরের গবেষণার মাধ্যমে কিডনি চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী সফলতা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি।’

এ সময় পুরো কোর্টে একপ্রকারের হাসির রোল পড়ে যায়। সবাই প্রায় হতভম্ব হয়ে যান যে, ওপেন কোর্টে এ ব্যক্তি কোথা থেকে এসে কী বলা শুরু করেছেন! তখন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ওই ব্যক্তির কাছে জানতে চান, ’আপনি কে? আপনি কী করেন?’ এরপর ঐ ব্যক্তি বলেন, ’আমার নাম সালাউদ্দিন মাহমুদ। আমি কেমিস্ট্রিতে লেখাপড়া শেষ করে কিডনি চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করেছি। আমি একজন কিডনি চিকিৎসক। টিকাটুলিতে আমার চেম্বার।’

এরপর আদালত তাকে বলেন, আপনাকে তো আমরা এই মামলার বিষয়ে এখানে ডাকি নি। আর আপনি কী বলছেন? আপনি কেমিস্ট্রিতে লেখাপড়া শেষ করে কিডনি চিকিৎসা করেন?

এরপর আদালতের ডায়াসে দাঁড়িয়ে সালাউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ’আমার কাছে হাজার হাজার কিডনি রোগী এসে ভালো হয়েছে। ডায়ালাইসিসের রোগী এসে ভাল হয়েছে, তাদের আর কখনোই ডায়ালাইসিস লাগেনি। এমনকি আমার কাছে একবার যে কিডনি চিকিৎসা করে ভালো হয়েছে তার জীবনে আর কখনোই কিডনির সমস্যা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের অনেক আইনজীবী, সমাজের বড় বড় ব্যক্তি, এমনকি রওশন এরশাদও আমার কাছ থেকে কিডনির চিকিৎসা নিয়েছেন’।

এসময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সবার মাঝে একটা কৌতূহলী আর হাস্যকর অনুভুতির তৈরি হয়। তবে আদালত কক্ষে চলা এরকম অদ্ভুত প্রেক্ষাপটকে যেন নাটকীয়তায় রুপ দেন হাইকোর্ট বেঞ্চেরই সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সিরাজুল আলম ভূঁইয়া। এই আইনজীবী দাঁড়িয়ে বিচারকদের উদ্দেশে বলেন,’মাই লর্ড, আমার এক নিকট আত্মীয় ওনার ভেষজ ঔষধ খেয়ে কিডনি রোগ থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মুখ থেকে এ কথার শোনার পর যেন পুরো আদালতকক্ষ স্তম্ভিত হয়ে যায়!

আদালত এসময় সিরাজুল আলম ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আপনি কি ঠিক বলছেন? আপনার আত্মীয় সুস্থ হয়েছেন উনার ওষুধ খেয়ে? এর জবাবে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বললেন: মাই লর্ড, আমার আত্মীয় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। এবং তার আর এখন কিডনির সমস্যা নেই। তখন আদালত বললেন, তাহলে তো একে নোবেল পুরস্কার দেয়া উচিত। একে তো সরকারের প্রমোট করা উচিত। যদি তার এই চিকিৎসা পদ্ধতি সঠিক হয় তাহলে তো এটা একটা বিস্ময়।

একপর্যায়ে কিডনি চিকিৎসক দাবি করা সালাউদ্দিন মাহমুদ আদালতকে বলেন, ’মাই লর্ড, আমার ব্যাপারে খোঁজ নিতে পারেন। আমার চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে খোঁজ নিতে পারেন। আপনারা দেখতে পারেন যে, আমার চিকিৎসায় কিডনি রোগী সফলভাবে সুস্থ হয় কি না। আমি চ্যালেঞ্জ দিতে পারি, শেষ মুহূর্তে থাকা কোনো কিডনি রোগীও যদি আমার চিকিৎসা নেয় তাহলে সে পরিপূর্ণ সুস্থ হবেন।

এরপর হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে বলেন, সালাউদ্দিন মাহমুদের বিষয়টি নিয়ে আপনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। সত্যিই যদি কিডনি চিকিৎসায় ওনার কোন সফল আবিষ্কার থেকে থাকে তাহলে তো উনি প্রশংসার দাবিদার।

তবে সালাউদ্দিন মাহমুদ নামের এক ব্যক্তির এমন কথা শুনে অনেকেই অবাক হয়েছেন। যেহেতু তিনি সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, কোনো শেষ মূহুর্তের রুগীও যদি কিডনি জনীত সমস্যায় তার কাছে আসেন তাহলে তিনি তাকেও সুচিকিৎসা দিয়ে তাকে সুস্থ করতে পারবেন। এবং তার আর কোনো দিন কারও কাছে এ রোগের জন্য যেতে হবে না। তার এমন আত্ববিশ্বাস দেখে সবাই অবাক হয়েছেন।