বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে রয়েছে নানা অনিয়ম। এই সকল অনিয়মের ফলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডও নানা ভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে। এমনকি এই সকল অনিয়ম দেশের উন্নয়নের চালিকা শক্তিকে বাধা গ্রস্থ করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কোভিড১৯ ভাইরাসকে ঘিরে সংকটের মুখে পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলার জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানেরাও এগিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এক মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন ব্যাংক লুটেরাদের সম্পদ জব্দ করে করোনায় ব্যয় করতে।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে লুটপাট করে যারা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, দেশের এই দুর্যোগে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সময় এসেছে লুটেরাদের সম্পদ জব্দ করে করোনাভাইরাসে বিপদে পড়া মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার। লুটেরাদের সম্পদ জব্দে আইনে কোনো বাধা নেই বলেও জানান এই বিচারপতি। গতকাল তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকিং খাতের নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার খবরে সরকার বিব্রত হয়েছে। ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়েছেন অনেকেই। এ লুটেরাদের খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে কামাই করা এসব টাকা কেউ দেশে রাখেনি। অনেকেই বিদেশে বাড়ি-গাড়ি করেছে। দেশের মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে বসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। দেশেও তাদের অনেক সম্পদ রয়েছে। অথচ দেশের এই দুর্যোগকালে তারা লুকিয়ে আছে। দেশের বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য ন্যূনতম ভালোবাসাও তারা দেখান না। তিনি বলেন, এতেই প্রমাণ হয়, তাদের কোনো দেশপ্রেম নেই, দেশের মানুষের জন্য কোনো সহানুভূতি নেই। এক কথায় আমি বলব, তারা ডাকাত। তাদের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়া। বসুন্ধরার মতো দু-একটি কোম্পানি মানুষের জন্য কাজ করলেও অনেক বিত্তবানই গা-ঢাকা দিয়েছেন। এসব দেখে আসলেই খুব কষ্ট হয়। বিচারপতি মানিক বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থ পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় কিন্তু বিদেশে পাচারকৃত টাকাগুলোও দেশে ফেরত আনা যায়। এ ছাড়া এই লুটেরাদের দেশে যে বিপুল সম্পদ রয়েছে, সেগুলোও জব্দ করে করোনার কারণে বিপদে পড়া মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে।

প্রসঙ্গত, প্রাননাশকারী কোভিড১৯ ভাইরাস বাংলাদেশে খুবই মারাত্মক আকারে জেঁকে বসেছে। এই ভাইরাসের তান্ডবে জন-জীবন ব্যাহিত হচ্ছে। অধিক মাত্রায় ক্ষতির শিকার হয়েছে সমাজের অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ গুলো। দেশের জনগন সহ বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত দেশ গুলো এই ভয়াবহ ভাইরাস থেকে উত্তরনের পথ খুঁজছে।