দেশে কোভিড১৯ ভাইরাসের ভয়াবহতা ক্রমশই খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃ"ত্যুবরনের সংখ্যা প্রতিনিয়ত ভারি হচ্ছে। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সমালোচনা করে সমাজের অনেকেই অনেক ধরনের বার্তা প্রদান করেছে। এবার লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদও সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সমালোচনা করে বার্তা প্রদান করেছেন।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহ্বায়ক ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, সরকার একাধিকবার ছুটি ঘোষণা এবং ছুটি বাতিল করার ফলে, জনগণ সমগ্র দেশে একাধিকবার বিনা বাধায় ভ্রমণ করার সুযোগ পেয়েছে। শ্রমিকরা কর্মস্থল থেকে একাধিকবার নিজ নিজ গ্রামে আসা-যাওয়ার ফলে পক্ষান্তরে-সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সমগ্র দেশে করোনাভাইরাস চাষাবাদ হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

অলি আহমদ বলেন, মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশের এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতিরোধ করার জন্য কারফিউ অথবা জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য সরকারকে একাধিকবার অনুরোধ করেছি। সরকার আমার সে পরামর্শগুলি কর্ণপাত করেনি। যার কারণে আজ সমগ্র দেশে করোনা বিস্তৃতি লাভ করেছে। এছাড়াও ঢাকা এবং চট্টগ্রামের অলিগলিতে করোনা রোগের প্রাদুর্ভাব বিস্তার ঘটছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যদি জরুরি অবস্থা অথবা কারফিউ জারী করা হত, তাহলে করোনাভাইরাস কখনো বর্তমান পর্যায়ে পৌছাতো না।

তিনি বলেন, বড় বড় শহরগুলিতে করোনায় সংক্রমিত হলে, কোন হাসপাতালগুলিতে আসন খালি আছে, কোথায় রোগী ভর্তি করা যাবে, জনগণ তা স্পষ্টভাবে জানে না। ফলে পরিবারের সদস্যদের করোনা রোগীকে নিয়ে একাধিক হাসপাতালে ছুটাছুটি করতে হচ্ছে। আশাকরি সরকার এ সমস্যাগুলি উপলব্ধি করবেন। বড় বড় শহর এবং জেলা-উপজেলাতে রোগীরা কোন জায়গায় গেলে চিকিৎসা পাবে, এ তথ্যগুলি প্রতিনিয়ত টেলিভিশনের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করা উচিত। জনগণ বাঁচলে অর্থনীতি সব সময় ঠিক করা সম্ভব হবে। কিন্ত লাশের মিছিল লম্বা হলে সবকিছু হাত ছাড়া হয়ে যাবে। এখনো সময় আছে কঠোরভাবে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও কারফিউ দিয়ে করোনা বিস্তাররোধ করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রসঙ্গত, সমগ্র বিশ্বই আজ করোনার জালে বন্দী। বাংলাদেশও বাদ যায়নি এই কোভিড১৯ ভাইরাসের ভয়াবহ ভায়াল থাবা থেকে। বাংলাদেশে এই করোনা ভাইরাসের দেখা মিলে ৮ মার্চ। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০,৩৯১ জনে। এবং মৃ"ত্যুবরন করেছে ৮১১ জন। এছাড়াও এই ভায়াবহ ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থতা লাভ করেছে ১২,৮০৪ জন।