দেশে মারাত্মক ভাবে জেঁকে বসেছে কোভিড১৯ ভাইরাস। এই ভাইরাস মোকাবিলায় সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। এবং এই সংকটময় পরিস্তিতিতেও ২০২০-২১ সালের অর্থ বছরের বাজেট সংসদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সরকারে নেওয়া করোনা মোকাবিলায় পদক্ষেপ এবং এবারের অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে বিএনপি দলের সাংসদদের নানা ধরনের দ্বিমত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যরিষ্টার রুমিন ফারহানা এবারের বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এক বার্তা প্রদান করেছেন।
বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, বাজেটে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। এই বাজেট আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। রুমিন ফারহানা বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ যেরকম ঢালাওভাবে করা হয়েছে সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে আর হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই টাকার উৎস সম্পর্কে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না। মানুষকে অসৎ হবার প্ররোচনা দেবে। তিনি বলেন, সরকারকে এই উদ্ভট, অকল্পনীয় রাজস্ব আয়ের কথা ভাবতে হয়েছে কারণ সরকার তার তথাকথিত মেগা প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ কমায়নি। মেগা লুটপাটের এই লোভ করোনাকালীন সময়ে মাত্র এক বছরের জন্য সম্বরণ করতে পারেনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেটে ব্যাংক খাতের ক্যান্সার হয়ে পড়া খেলাপি ঋণ কমানোর কোন পদক্ষেপ নেই। এই বাজেটে সরকারের ক্ষমতাশালীদের কমিশন পাবার শর্তে জনগণের টাকা কিছু লুটেরার হাতে তুলে দেবার কুইক রেন্টাল বিদ্যুতকেন্দ্র বন্ধ করা হয়নি। তিনি বলেন, সবচেয়ে দরিদ্র মানুষও যে মোবাইল ফোনে কথা বলে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে সেটা ব্যবহারের খরচ বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু শুল্ক কমানো হয়েছে ধনীদের ব্যবহার্য সোনার। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রত্যাখান করে বক্তৃতায় রুমিন ফারহানা একথা বলেন।

প্রসঙ্গত, কোভিড১৯ ভাইরাসের সংক্রমনে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের উপর দেওয়া সরকারের নানা নির্দেশনা থাকলেও সকল ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি এই ভাইরাসের শিকার হয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিরা অনেকেই কোন সাহায্যে সহযোগিতা পায়নি। এরই পররিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার নানা ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।