কোভিড১৯ ভাইরাসের তান্ডবে চিকিৎসা খাতের নাজেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নানা ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ দেশের চিকিৎসা খাত। এছাড়াও পূর্বেও এই খাতের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহন করেছে এই খাতের উন্নয়নের জন্য। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তিদের জন্য এই খাতের উন্নয়ন ব্যহিত হচ্ছে। তবে এবার এই খাতের উন্নয়নের জন্য তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছে সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে টাস্ক ফোর্স গঠনসহ তিন দফা প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে দেশীয় গবেষকদের দ্বারা কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট, টিকা ও অন্যান্য ওষুধ আবিষ্কারে চিকিৎসা বিজ্ঞানে যে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে তা এগিয়ে নেয়া আমাদের মৌলিক জাতীয় কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময় এসেছে রাষ্ট্রের উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণের। এসব গবেষণা কর্মে নিয়োজিত গবেষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিনন্দন জানাই।

ইতোমধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং গ্লোব বায়োটিক লিমিটেডের এসব উদ্ভাবন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ওষুধ আবিষ্কারে অত্যাধুনিক গবেষণা কেন্দ্রও স্থাপিত হয়েছে। আরও প্রতিষ্ঠান দেশে অনুরূপ গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে বিশ্বমানের ওষুধ প্রস্তুতকারী অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিছু কিছু দুরারোগ্য ব্যাধির ঔষধ উৎপাদনে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে লণ্ডভণ্ড অবস্থার মধ্যেও এসব সংবাদ খুবই আশাবাদের জন্ম দিচ্ছে। বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কোন অবদান স্বীকৃতি লাভ করলে বিশ্বব্যাপী বাঙালি জাতির মর্যাদা উচ্চতর পর্যায়ে উপনীত হবে। যা হবে যুগান্তকারী ঘটনা। জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নয়নই হবে জাতির আত্মমর্যাদার উন্নয়ন। এর কোন বিকল্প নেই।

এসব চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের গবেষণা কাজকে উৎসাহিত করতে সমর্থন জোগাতে সরকার এবং ঔষধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গুলোকে আরও জোরালো ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের গবেষণা কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা সমর্থন অব্যাহত থাকলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বড় ধরনের অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
এপ্রেক্ষিতে অবিলম্বে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনে আমাদের তিন দফা প্রস্তাব হচ্ছে:
১. চিকিৎসা বিজ্ঞানী, কেমিস্ট, গবেষক, ফার্মাসিস্ট ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের নিয়ে ’চিকিৎসা বিজ্ঞান টাস্কফোর্স’ (Task Force on Health Science-THS) গঠন করা।
২. স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক ক্ষেত্রে চিকিৎসা গবেষণার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করা।
৩. স্থায়ী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণার প্রয়োজনে চিকিৎসা বিজ্ঞান একাডেমি (Health Science Academy-HSA) প্রতিষ্ঠা করা।

প্রসঙ্গত, অবশ্য কোভিড১৯ ভাইরাসের ভয়াল হানায় বিশ্বের উন্নত এবং চিকিৎসা সম্পন্ন দেশ গুলোরও নাজেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়ছে। তবে বিশ্বের সকল দেশ আপ্রান ভাবে কাজ করছে এই ভাইরাস মোকাবিলায়। বাংলাদেশও আগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এই ভাইরাস মোকাবিলায়। এছাড়াও বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যপক ভাবে নানা ধরনের সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে। তবে এই খাতের আরো উন্নয়নের জন্য সরকারের বিশেষ সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারী সহযোগিতা ছাড়া কোন ভাবেই এই খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।