দেশের চিকিৎসা খাতের নাজেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় বিভিন্ন সময় এই খাতের অনিয়মকে ঘিরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা-লেখি হয়ে থাকে। তবে এত অভিযোগের পরেও এই খাতের তেমন কোন উন্নতি হচ্ছেনা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সৃষ্ট কোভিড১৯ ভাইরাসের সংকটময় পরিস্তিতির মধ্যেও এই সকল অনিয়মে লিপ্ত হয়েছে চিকিৎসা খাত। রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। এবং এই হাসপাতালের সকল কর্মকান্ড ঘিরে দেশ জুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসা খাতের নানা অনিয়মকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোষ্ট দিয়েছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
হাসপাতাল অনুমোদন ছাড়া চললো কিভাবে, কারা কিভাবে ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট দিলো, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির কারণেই অসংখ্য স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রাণ হারাতে হয়েছে কিনা, এদের সঙ্গে সরকারি দলের কোন পর্যায়ের ঘনিষ্ঠতা আছে বা নেই, সরকারি ঘোষণায় বানান ভুল আছে কিনা, মিডিয়া কেন আগে এই সব দুর্নীতির খবর অনুসন্ধান করে বের করতে পারেনা, করোনা ভাইরাসের মাত্রা বিষয়ে সরকারী ভাষ্যের বাইরে কেন কিছু প্রকাশিত হয় না- এই সব প্রশ্ন করতে পারেন, কিন্ত আসল প্রশ্নটা কি? কে কার কাছে প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য আছে সেটা বোঝা দরকার। সরকার ও ক্ষমতাসীন দল কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়, সে কারণেই কারো কাছে সরকার জবাবদিহি চাইতে সক্ষম নয়, আগ্রহীও নয়। নিজেরা নিজেরা হলে আর জবাবদিহির কথা ওঠে না, ভাগ বাটোয়ারার প্রশ্ন ওঠে।

করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে যে ধরণের আচরণ করা হয়েছে/ হচ্ছে তার লক্ষ হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষকে স্বান্তনা দেয়া – ’সব ঠিক আছে’। মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখালেই যারা ভাবছেন যে, দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা হবে তারা নিজেরাও জানেন যে এর পরিণতি কি। মৃ"তের সংখ্যা বা আক্রান্তের সংখ্যার চেয়ে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে শনাক্তকরনের প্রক্রিয়া ঠিক আছে কিনা, মাত্রাটা বোঝা যাচ্ছে কিনা। এই অবস্থা মোকাবেলার জন্যে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা। কিন্ত ক্ষমতাসীনরা ধরে নিয়েছেন কিছু সংখ্যা কম করে দেখালেই হল। আর যদি এই নিয়ে প্রশ্নও থাকে তা তাকে বা তাদের পরিবারকে কোন রকম অসুবিধায় ফেলবে না।

কিন্ত ইতালিতে কী ঘটেছে সেটা কিসের ইঙ্গিত দেয়? জাপান, চীন, এবং কোরিয়ার ঘটনার পরে এই নিয়ে কোনও রকম মাথা ব্যথা হয়নি। দেশের ভেতরে জনস্বাস্থ্যের বিপদের সূচনা হয়েছে অনেক আগেই। এই নিয়ে এখন আর বেশ কিছু বলাও হয়না। অর্থনীতির অবস্থা, বিশেষত দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের অবস্থা সকলের জানা। হু হু করে দারিদ্র বাড়ছে। কিন্ত এরই মধ্যে কমপক্ষে ২৫ হাজার শ্রমিককে বেকারত্বের মধ্যে ঠেলে দেয়া হয়েছে। চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। আর সেই নিয়ে কথা বলার পরিণতি হচ্ছে এক ভয়াবহ আইনের ব্যবহার।

কিছু নিয়ে কথা বলাই আর নিরাপদ নয়। আগে ’গো/প/ন ষ/ড়/য/ন্ত্রের’ অভিযোগ শোনা যেতো এখন ’শলা-পরামর্শই’ যথেষ্ঠ। রাতের আধারে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে আটকের ঘটনা ঘটছে। আইন কি বলে, আদালত কি বলেছে সেটা ধর্তব্যের বিষয় নয়। আর কিছু লোককে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে এই সবকে আড়াল করার জন্যে অপ্রয়োজনীয় সব বিষয়ে আলোচনা, বিতর্কের সূচনা করার জন্যে। হাসপাতাল, সার্টিফিকেট, সিন্ডিকেট নিয়ে যে সব প্রশ্ন সেই সব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্ত তার চেয়ে বেশি জরুরি এই বিষয়টি বোঝা যে সরকারের জবাবদিহি নেই কেন। এই প্রশ্নকে এড়িয়ে গিয়ে আর কোন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবেনা।

প্রসঙ্গত, কোভিড১৯ ভাইরাসের প্রকোপ শুধু বাংলাদেশেই নয় ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব জুড়ে। এই ভাইরাসের কবলে পড়ে বিশ্বের সকল দেশেরই নাজেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসা খাতে উন্নত দেশ গুলোও বেশ বিপাকে পড়েছে এই ভাইরাসের ভয়াবহ তান্ডবে। এই সংকটের মধ্যেই বাংলাদেশের অসাধু ব্যক্তিরা মানুষদের জিম্মি করে রেখেছে দুর্বল চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই করছে ভুয়া রিপোর্ট এবং নিচ্ছেও মোটা অঙ্কের টাকা। দেশের চিকিৎসা খাতের উন্নয়নের জন্য এই সকল অনিয়ম প্রতিরোধ করা বিশেষ প্রয়োজন। এবং অনিয়মকারীদের বের করে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন করতে হবে।