নানা নির্দেশনার মধ্যে দিয়ে বিমান যাত্রা সচল হলেও লন্ডনে বসবাসকারী সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীরা আর সরাসরি লন্ডন থেকে সিলেট যাতায়াত করতে পারবেন না। বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি লন্ডন-সিলেট ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশ বিমানের লন্ডন-সিলেট যাত্রীদের যাদের ঢাকা থেকেই লাগেজ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ঢাকায় ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিমানের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সিলেটে পাঠানো হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমন সিদ্ধান্তে বিড়ম্বনায় পড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকরা। তাদের লাগেজ টেনে ডোমেস্টিক টার্মিনালে যেতে হচ্ছে যা করোনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যদিও করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্যই উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় বিমান এমন নির্দেশনা জারি করেছে বলে জানিয়েছেন বিমান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার জানান, করোনা পজিটিভ বা উপসর্গ রয়েছে এমন যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনে পাঠাতে হয়। এটা নিশ্চিত করতেই উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে লন্ডন ফেরতদের সিলেট না পাঠিয়ে ঢাকায় ইমিগ্রেশন হচ্ছে। সঙ্গত কারণেই তাদের লাগেজও সিলেটে যাচ্ছে না, বরং ঢাকা থেকেই কালেক্ট করতে হচ্ছে।

বিমানের এই সিদ্ধান্তে সিলেট ও লন্ডনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এফবিসিসিআই’র পরিচালক খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, এই সিদ্ধান্তে বিমান যাত্রী হারাবে। কারণ লন্ডন থেকে সরাসরি সিলেট আসার জন্য যুক্তরাজ্যের সিলেট অঞ্চলের যাত্রীরা বিমান বেছে নেন। এক্ষেত্রে তারা অন্য এয়ারলাইন্সে আসবে। তিনি সিলেটে আইসোলেশন সেন্টার করে, তাদের ইমিগ্রেশন যেন সিলেটে হয় এবং লাগেজ যেন সিলেটই করা যায় সে সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল হেলাল খান এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষদের রক্ত ঘামে গড়া দেশের মানুষের সঙ্গে এই অমানবিকতার শেষ হোক! আসুন এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই একসঙ্গে।

দেশের সকল ক্ষেত্রেই নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে কোভিড১৯ ভাইরাসের মহা তান্ডবে। এই প্রাননাশকারী ভাইরাস শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বের প্রায় ২১৩টি দেশ ও অঞ্বলে ছড়িয়ে পড়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এক দেশ অন্য দেশের সাথে সাময়িক ভাবে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নানা শর্তের বিনিময়ে সীমিত পরিসরে সকল কর্যক্রম স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে বিশ্বের করোআন আক্রান্ত দেশ গুলো। তবে সামপ্রতিক সময়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নেওয়া এক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছে যাত্রীরা।