বর্তমান সময়ে দেশ অনলাইন ভিত্তিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠন গুলো বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এদেরই মধ্যে প্রথম সারির আলোচনা-সমালোচনার শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইভ্যালি। এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড নিয়ে জাতীয় সংসদে বেশ কিছু কথা জানালেন বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
সরকার ও প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার সুযোগ পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধীবেশনে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা বলেন। রুমিন ফারহান বলেন, ইভ্যালির কর্মকাণ্ডের দায় সরকার এড়াতে পারে না। এর দায় সরকারকে নিতে হবে। সরকারের নাকের ডগায় বসে তারা কোটি কোটি টাকা মেরে দেবে এটা হতে পারে না। এদিকে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের (প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান) বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় প্রতারণা মামলা করেছে এক গ্রাহক। বুধবার মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মো. আরিফ বাকের মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ইভ্যালির আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজহারে বলা হয়, ইভ্যালি থেকে ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকার পণ্য অর্ডার করেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পাননি তিনি। নিরুপায় হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গত সপ্তাহে সম্পদ ও দায়ের হিসাব দাখিল করে ইভ্যালি। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তাদের মোট দায় ৫৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে এক কোটি টাকা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল কোম্পানিকে দিয়েছেন। বাকি ৫৪৩ কোটি টাকাই কোম্পানিটির চলতি দায়। ইভ্যালির হিসাব অনুযায়ী, দায়ের বিপরীতে এর চলতি সম্পদ রয়েছে ৯০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর সম্পত্তি, স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি মিলিয়ে রয়েছে ১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। মোট ১০৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার এ দুটির যোগফলকে দেখানো হচ্ছে স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে। মোট দায় ৫৪৩ কোটি টাকা থেকে ওই অঙ্ক বাদ দিলে বাকি থাকে ৪৩৮ কোটি টাকা। যাকে ইভ্যালি বলছে তার অস্থাবর সম্পত্তি। বিবরণী মেলাতে ইভ্যালি দেখিয়েছে, অস্থাবর সম্পত্তি ৪৩৮ কোটি টাকার মধ্যে ৪২৩ কোটি টাকা হচ্ছে ইভ্যালির ব্র্যান্ড মূল্য, আর ১৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা হচ্ছে অদৃশ্যমান সম্পত্তি। কোম্পানিটি নিজের ব্র্যান্ড মূল্য নিজেই নির্ধারণ করেছে। শুধু গ্রাহকদের কাছে ইভ্যালির দেনার পরিমাণ ৩১১ কোটি টাকা। এ দেনা আছে মোট ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪১ গ্রাহকের বিপরীতে। এ হিসাব গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত।

অবশ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠার পর থেকেই অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটির আয়-ব্যয় এবং দেনার পরিমান উঠে এসেছে প্রকাশ্যে। তবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিরুদ্ধে আনীত অর্থ আত্মসাৎের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।