বিএনপি আর ’ভদ্রলোকের মতো’ নমনীয় কর্মসূচি দেবে না জানিয়ে দলের নেতা-কর্মীদেরকে ’কঠোর’ কর্মসূচির জন্য অপেক্ষায় থাকতে বলেছেন মওদুদ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ’’আর কিছুদিন অপেক্ষায় থাকুন, উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কর্মসূচি দেয়া হবে। সেটা হবে কঠোর কর্মসূচি।’
শনিবার রাজধানীতে একটি গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপি নেতা।
বর্তমান সরকারের দুই আমলে দুইবার ’কঠোর’ আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। নজিরবিহীন নাশকতা আর সাধারণ মানুষের বাহনে পেট্রল বোমা হামলা চালিয়ে অবশ্য সরকারকে নতি স্বীকার করানো যায়নি। নির্বাচনের আগে ২০১৩ এবং ভোটের পর ২০১৫ সালের খালি হাতে ঘরে ফিরেছে বিএনপি।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে ঘিরে আবারও নাশকতার সেই স্মৃতি ফিরে আসছিল। তবে খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তাদেরকে ’হঠকারিতা’ করতে নিষেধ করেছেন দলীয় প্রধান।
এরপর থেকে বিএনপি মানববন্ধন, অবস্থান, গণসাক্ষর, সমাবেশ, মিছিলের মতো কর্মসূচি দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে।
তবে কর্মসূচি আর শান্তিপূর্ণ থাকবে না জানিয়ে মওদুদ বলেন, ’এবার আর নরম বা ভদ্রলোকের মত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হবে না। কারণ কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে উৎখাত করা যায় না। কোথাও হয়নি।’
আগামী দিনের আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ’এখন আর শুধু ২০ দল নয়। সরকারবিরোধী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বিএনপিকে আরও উদার হতে হবে। সরকারকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে।’
দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মওদুদ। বলেন, এক মামলায় জামিন পাওয়ার পর অন্য মামলায় জামিন ঠেকাতে সরকার ছলচাতুরি করছে।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তাকে ’উপযুক্ত’ চিকিৎসা দিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মওদুদ।
’বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যুর বিচার হবে’
’নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম’ আয়োজিত এই আলোচনার বিষয় ছিল ’বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড ও মৌলিক অধিকার’ বিষয়ে। এ সময় মওদুদ চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ’বন্দুকযুদ্ধে’ প্রাণহানির তীব্র সমালোচনা করেন। বলেন, এগুলো ঠান্ডা মাথার হত্যা। এর বিচার হবে।
বাংলাদেশে ২০০৪ সাল থেকে যখন ’ক্রসফায়ার’ বা ’বন্দুকযুদ্ধে’ ব্যাপক আকারে সন্দেহভাজন অপরাধীদের মৃত্যুর বর্ণনা আসতে থাকে তখন মওদুদ ছিলেন আইনমন্ত্রী। সে সময় থেকেই এভাবে ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধকে বিচার বহির্ভুত হত্যা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছিল।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে ক্রসফায়ার শুরুর পর বিএনপি সরকারের তিন বছরে নিহত হয় ৯৫১ জন। আর তত্ত্বাবধায়কের দুই বছরে একই প্রক্রিয়ায় নিহত হয় ৩৫৫ জন। আর আওয়ামী লীগের ৯ বছরে গত মে অবধি প্রাণ গেছে এক হাজার ৬৮৭ জনের। অর্থাৎ বিএনপি সরকারের আমলেই তুলনামূলকভাবে বেশি মৃত্যু ঘটেছে।
মওদুদ বলেন, ’বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এই সরকারের দুই আমলে গুম, হত্যা, অপহরণ, বিনা বিচারে হত্যা করা নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
’সড়ক দুর্ঘটনায় যেমন প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে তেমনি প্রতিদিন এমন হত্যাকাণ্ড ঘটছে। সম্প্রতি মাদক বিরোধী অভিযানের নামে ঠান্ডা মাথায় মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে।’
মাদকবিরোধী অভিযানের নিহতের কথা তুলে ধরে বিএনপি নেতা বলেন, ’তাদেরকে হত্যা করার অধিকার কে দিয়েছে? সংবিধানে কোথাও কাউকে এমন সুযোগ দেয়া নেই। যারা এই ক্ষমতা দিল এবং যারা ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে তাদেরও একদিন বাংলাদেশের মাটিতে বিচার হতে হবে।’
হঠাৎ করে এই অভিযানের পেছনে দুরভিসন্ধি আছে বলেও মনে করেন মওদুদ। বলেন, ’নির্বাচনের আগে মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য এই অভিযান। আর বিরোধী দলকে নির্মূল করা উদ্দেশ্য।’
’আমরা খবর পাচ্ছি দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের সক্রিয় কর্মীদের মাদকের ভয় দেখিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, বাসা বাড়িতে পুলিশ হানা দিচ্ছে।’
(ঢাকাটাইমস