কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিতে সকাল থেকে প্রস্তুতি চললেও পরে না নেওয়ার ইঙ্গিতই মিলেছে।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন সোমবার জানিয়েছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন \’রাজি থাকলে\’ মঙ্গলবারই তাকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হবে।

বিএনপি বিএসএমএমইউ বাদ দিয়ে তাদের নেত্রীকে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসায় রাজি হওয়ার বিষয়টি আসে আইজি প্রিজন্সের কথায়/ALTERNATES/w300/Jail-Gate-11-06-2018.jpg।

তার কথা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের কারাগারে সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি দেখা যায়।

কারাগার সংলগ্ন মাক্কুশা মাজারের সামনে পুলিশ অবস্থান নেয়। গণমাধ্যমকর্মীদেরও কারাগারের প্রধান ফটকের দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না।
/ALTERNATES/w300/Khaleda-Zia-BSMMU-AMO-07042018-0002.jpg
কারা

প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় পুলিশের দুটি প্রটেকশন গাড়ি, র‌্যাবের একটি গাড়ি। কারা ফটকের সামনে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একে একে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চলে যেতে থাকে। গাড়িগুলোও সরে যায়।

এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে কোনো বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা মুখ খুলতে চাননি।

তবে চলে যাওয়ার সময় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, \"আমরা মেসেজ পেয়েছি যে আজ প্রোগ্রাম হচ্ছে না।\"

৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে চার মাস ধরে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে রয়েছেন।

তিনি একবার অসুস্থ হয়ে পড়লে গত এপ্রিলের শুরুতে তাকে একবার বিএসএমএমইউতে নিয়ে এক্স রে করানো হয়েছিল।


গত ৫ জুন তিনি হঠাৎ করে কারাগারে \’মাথা ঘুরে\’ পড়ে গেলে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে বিএনপি; তাকে দেখতে গত শনিবার কারাগারে যান তার ব্যক্তিগত চারজন চিকিৎসক।

খালেদার \’মাইল্ড স্ট্রোক\’ হয়েছে ধারণা করে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার সুপারিশ করেন তারা।

এরপর সোমবার কারা মহাপরিদর্শক সাংবাদিকদের বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী বন্দিকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ নেই, নিতে হবে সরকারি হাসপাতালেই। সেজন্য বিএনপি চেয়ারপারসন রাজি থাকলে তাকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হবে।

এজন্য নিজেদের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি বিএসএমএমইউতে প্রস্তুতি রাখার কথাও বলেছিলেন সৈয়দ ইফতেখার।