ছোট ভাইয়ের জানাজার নামাজ পড়াতে আজ মঙ্গলবার প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। তার ছোট ভাই আলহা হুমায়ুন কবির সাঈদী (৫৬) গতকাল সোমবার সকালে ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক (বারডেম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
একটি সূত্রে জানা গেছে, বিকেল নাগাদ তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হতে পারে।
hitachi মাওলানা সাঈদীর ছেলে ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেন, ’আমার বাবা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারে থাকায় ছোট কাকার জানাজার নামাজ পড়াবার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তির জন্য সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। তিনি প্যারোলে মুক্তি পেলে মঙ্গলবার বাদ জোহর ঢাকায় মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আমাদের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় মরদেহ নিয়ে আসা হবে। সেখানে আমার বাবার প্রতিষ্ঠিত এস ডি মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদরাসা মাঠে বুধবার দ্বিতীয় জানাজা শেষে সাঈদখালীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।’
এর আগে ২০১১ সালের ২৭ অক্টোবর সাঈদীর মা গুলনাহার ইউসুফের মৃত্যুর পর এবং তার বড় ছেলে মাওলানা রাফিক বিন সাঈদীর ২০১২ সালের ১৩ জুন মৃত্যুর পর তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ২৮ অক্টোবর মায়ের এবং ১৪ জুন ছেলের জানাজার নামাজ পড়ান।
মাসুদ সাঈদী আরও জানান, ’সরকার অবশ্যই আমার আব্বাকে তার ছোট ভাইয়ের জানাজার নামাজ পড়াতে মানবিক কারণে প্যারোলে মুক্তি দেবে বলে আশা করছি।’
এদিকে মরহুমের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি গাজী নুরুজ্জামান বাবুল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, জেলা জামায়াতের আমীর সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা তাফাজ্জাল হোসইন ফরিদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর হাবিবুর রহমান।
হুমায়ুন কবির সাঈদী গত ৫ দিন ধরে নিউমোনিয়া জ্বরে এবং হৃদরোগেও আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রেখে গেছেন।
প্রসঙ্গত, ’ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাত’ করার অভিযোগে ২০১০ সালের ২১ মার্চ তারিখে দায়েরকৃত বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঐ বছর ২৯ জুন তারিখে রাজধানীর শাহীনবাগের বাসা থেকে পুলিশ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে গ্রেপ্তার করে।উৎসঃ আরটিভি