আপনি কোনো সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা জেনে থাকতে পারেন যে "সেল ফোন বিপজ্জনক" যেটা একদল গবেষক দাবি করেন এবং অন্যদের দাবি যে "সেল ফোন নিরাপদ প্রমাণিত হয়েছে।" এটা বিশ্বাস করাই আপনার জন্য কঠিন যে কোনটা সঠিক অথবা কোনটা ভুল, বিশেষ করে যখন আমরা এই সুবিধাজনক যোগাযোগ ডিভাইসের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি।
গত বছর, গত 30 বছরের ’প্যারোটিড গ্র্যান্ডাম’ নামক টিউমারের ঘটনায় ইসরায়েলি গবেষকরা দেখেছেন এটি বর্তমান সময়ে তীব্র আকার ধারন করেছে। যেটা ২০০১ সালের পরে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি ঘটেছে। প্যারোটিড গ্রন্থি হলো আপনার গালের নিকটতম স্থানে অবস্থিত লালা গ্রন্থি, যেখানে অধিকাংশ লোক সাধারণত তাদের সেল ফোন ধরে রেখে কথা বলে। ১৯৭০ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এক গবেষনায় দেখা গিয়েছে, প্যারোটিড গ্রন্থির ক্যান্সার আগের তুলনায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে অন্যান্য লালা গ্রন্থির ক্যান্সারের হার স্থিতিশীল রয়েছে।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আপনার মাথার যে দিকে মোবাইল ফোন রেখে বেশি কথা বলেন, সেই দিকে প্যারোটিড গ্লান্ডটির টিউমার ঝুঁকিও বেশি থাকে। এটা বাড়তে পারে-
৩৪ শতাংশ- যদি আপনি একটি নিয়মিত সেল ফোন ব্যবহারকারী হন এবং ৫ বছর ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন।
৫৮ শতাংশ- যদি আপনার জীবনকালে প্রায় 5,500 টিরও বেশি কল থাকে।
৪৯ শতাংশ- যদি আপনি আপনার জীবনকালের মধ্যে ২66.3 ঘন্টা মোবাইলে কথা বলে।

মুঠোফোনের রেডিয়েশন জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোখে দেখা না গেলেও পরিবেশের ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ। দীর্ঘ মেয়াদে এ রেডিয়েশনের কারণে ব্রেইন টিউমার, ব্লাড ক্যানসার, নার্ভের সেল নষ্ট হয়ে যাওয়া, বন্ধ্যত্ব, পারকিনসনসহ জটিল সব শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ফিনল্যান্ড বিজ্ঞানী ডেভিস দাবি করেছেন, রেডিয়েশন-এর কারণে বুক পকেটে মোবাইল খোলা রাখলে হার্টের ওপর প্রভাব ফেলে। তিনি সারা বিশ্বের কাছে রেডিয়েশনের ক্ষতির দিক তুলে ধরেন তার ’ডিসকানেক্ট’ দ্যা ট্রুথ এবাউট সেলফোন রেডিয়েশন’ নামের বইতে। আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাবও দীর্ঘমেয়াদী। ফলে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারছে না।

শিশুরা এক মিনিট মোবাইল ফোনে কথা বললে ব্রেনে যে কম্পন তৈরি হয়, সে কম্পন স্থির হতে দু’ঘণ্টা সময় লাগে। এ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিং রেডিয়েশনের মধ্যে দীর্ঘ সময় চললে মানুষ অকাল বৃদ্ধের সম্মুখীন হতে পারে। ভুগতে হবে দৃষ্টিহীনতায় এবং নানা রকম চর্মরোগে। আক্রান্ত হচ্ছে ক্যান্সার, মস্তিষ্কে ক্যানসার, এ্যাজমা, টিউমার, ব্রেইন টিউমার, ব্লাড ক্যানসার, দৃষ্টিহীনতার মতো নানান জটিল রোগে। কিডনি রোগ, কানের স্মায়ূতন্ত্রের, শ্রবন শক্তি হ্রাস, রক্ত সঞ্চালনের বিঘ্ন, বুক ব্যথা, চর্ম রোগ, ক্যান্সার, হ্যার্ট এট্যাক, চোখের সমস্যা, ব্রেনের অক্ষমতাসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে।মোবাইল চালু অবস্থায় প্যান্টের পকেটে থাকলে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়, যৌনাঙ্গ চিকন, দূর্বল, শুক্রানু কমে যায়।এ ধরনের ক্ষতিকর তরঙ্গ শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলে এবং শুক্রাণুর ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে। গর্ভবর্তী মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশী মারাত্নক।