পড়াশোনার দৌড় উচ্চ মাধ্যমিক হলেও তথ্যপ্রযুক্তিতে আগ্রহী ছিলেন সামির আল মাসুদ (২৩)। আর এই প্রবল আগ্রহ থেকে নেতিবাচক হ্যাকিংয়ের মতো কাজে জড়িয়ে পড়েন এই তরুণ। শুরু করেন ফেসবুক আইডি হ্যাক করা। জনপ্রিয় সুন্দরী মডেল, অভিনেত্রী ও উঠতি তারকাদের ফেসবুক আইডি টার্গেট করে দখলে নিতেন অনায়াসে।
তারকাদের ফেসবুক আইডি দখলে নিয়ে তাঁদের বার্তা বক্সে হুমকি দিতেন আপত্তিকর ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার। দাবি করতেন মোটা অঙ্কের টাকা। যে আইডির অনুসারী বেশি সেই আইডির জন্য টাকাও দাবি করা হতো বেশি। আইডিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দাবি করতেন সামির। এই টাকা নিতেন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।

কখনো টাকায় সমাধান করতেন, কখনো আবার টাকা হাতিয়ে নিয়েও ফিরত দিতেন না আইডি। তারকাদের কাছ থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে আয় করা এসব টাকা তিনি ব্যয় করতেন নেশা করে।

সবশেষ তার খপ্পরে পড়েন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার প্রথম রানারআপ নিশাত নাওয়ার সালওয়া। আইডি ফেরত পেতে দাবিকৃত ১০ হাজার টাকা দিলেও ফেরত পাননি। অবশেষে গত ২ মে রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন নিশাত। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের শরণাপন্ন হন তিনি।

গতকাল বুধবার ঢাকার খিলক্ষেতের একটি বাসা থেকে সামিরকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ। রমনা থানার ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সামিরকে। আজ বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তোলা হবে।

সামিরের বাড়ি দিনাজপুরের ফুলবাড়িয়া থানার পূর্ব বাইজিদপুরে। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি কলাবাগান থানায় একই ধরনের এক মামলায় সাইবার মনিটরিং টিমের হাতে গ্রেপ্তার হন সামির। প্রায় দেড় মাস কারাগারে থাকার পর গত ২৫ মার্চ জামিনে বের হয়ে আবারও একই কাজ শুরু করেন।

দ্বিতীয়বার গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ হ্যাকার জানান, সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় অন্তত ৩০ জন অভিনেত্রী ও মডেলের ফেসবুক আইডি নিয়ন্ত্রণে নেন। এদের অনেকে আবার টাকা দিয়ে নিজেদের আইডি ফেরত পেয়েছে।

সাইবার ক্রাইম সূত্রে জানা যায়, জনপ্রিয় তরুণ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পূজা চেরি, টিভি অভিনেত্রী শারলিনা হোসেন, শাহতাজ মুনিরা হাশেম, উপস্থাপিকা ও মডেল মারিয়া নূর এবং এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকারের ফেসবুক আইডিও নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল হ্যাকার সামির আল মাসুদ। পরে টাকা দাবি করে এসব মডেল-অভিনেত্রীদের হুমকি দেয় মাসুদ।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে, সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, নিশাত নাওয়ার সালওয়ার কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নিয়েছিলেন সামির। সেই সূত্র ধরে তাঁকে গ্রেপ্তার করি আমরা।

তিনি বলেন, সামির শুরুর দিকে বেছে বেছে তরুণ মডেল-অভিনেত্রীদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতেন। বন্ধুত্বের আবেদনে সাড়া দেওয়ার পর টু ফ্যাক্টর অথরিটি ও ট্রাস্টের কন্টাক্টের মাধ্যমে মডেল-অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য জেনে নিতেন। এরপর শুরু হতো সামিরের দ্বিতীয় ধাপের কাজ। পিক্সআর্ট নামে সফটওয়্যারের মাধ্যমে মডেল-অভিনেত্রীদের আইডির নামে নকল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করতেন। খুলতেন জিমেইল অ্যাকাউন্টও। নকল এনআইডি তৈরি করার পর সাবমিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট গেট অপশনে গিয়ে তারকাদের ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট নিজের দখলে নিয়ে নিতেন।


সূত্র:somoyerkonthosor