খুলনার কর অঞ্চলের সহকারী কর কমিশনার মো. মেঝবাহ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে করদাতাদের দেয়া প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তিনি তিন কোটি ৪৭লাখ ৩৪হাজার ৪১৯টাকার পে-অর্ডার সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে সেসব নিজের নামে তুলে নেন বলে প্রমাণ পেয়েছে কর বিভাগ।
খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও মাগুরায় তিনি দায়িত্ব পালনকালে এসকল অনিয়মে সাথে জড়িয়ে পড়েন মেঝবাহ। অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত ও তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে কর বিভাগ।

সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কর বিভাগ রাজস্ব আদায়ে সাধারণ মানুষকে কর দিতে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। অপরদিকে করদাতাদের টাকা সরকারি কোষাগারে না দিয়ে আত্মসাতের ঘটনা সবাইকে অবাক করেছে। এ ধরনের অনিয়মের ঘটনা এই প্রথম বলে দাবি করছেন কর বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি টাকা আত্মসাতের এ অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন। গত সোমবার (২৭মে)মূখ্য মহানগর হাকিমের আদালত (খালিশপুর) অঞ্চলে মামলাটি দাখিল করেন খুলনা কর অঞ্চলের উপ কর কমিশনার (সদর প্রশাসন) খোন্দকার তারিফ উদ্দীন আহমেদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সহকারী কর কমিশনার মো. মেঝবাহ উদ্দিন আহমেদ খুলনা কর অঞ্চলের অধিনস্ত কর সার্কেল ১৪, বাগেরহাটে গত ২০১৭ সালের ৮মে থেকে ২০১৮ সালের ৮নভেম্বর পর্যন্ত করদাতাদের রাজস্ব হিসাবে দাখিলকৃত বেশ কিছু পে-অর্ডার, ডিডি, ক্রস চেক সরকারি কোষাগারের পরিচালিত হিসাবে চালানের মাধ্যমে জমা না দিয়ে বাগেরহাট সোনালী ব্যাংক শাখায় জমা দেন। পরবর্তিতে তিনি সেই অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের স্বাক্ষরের মাধ্যমে ২কোটি ১০লাখ ২৪হাজার ৪২৩টাকা উত্তোলন করেন। মোট ৪০টি চেকের মাধ্যমে তিনি এ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন।

এছাড়াও মোংলা, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও মাগুরায় দায়িত্বে থাকাকালীন সময় একইভাবে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ম্যাধ্যমে ১কোটি ৩৭লাখ ১০হাজার ৬টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসকল বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অবগত হওয়ার পর প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পায়। পরে কর বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে খুলনা কর বিভাগ।

খুলনা কর অঞ্চলের কমিশনার প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, এ ধরনের অনিয়ম এর আগে দেখা যায়নি। সহকারী কর কমিশনার মেঝবাহ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তও করা হয়েছে।

সূত্র:ঢাকাটাইমস