বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে ওরাং ওটাং মানুষের অনেক কাছাকাছি বলে ধারনা করেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, মানুষের দেহের আকৃতির পাশাপাশি চিন্তা-ভাবনা করার অনেকটাই মিল পাওয়া যায় এই ওরাং ওটাং জীবটার মাঝে। তবে তারা হয়তো মানুষের মতো কথা বলতে পারে না, কিন্তু মানুষের মতো তারাও ভালো মন্দকে বিবেচনা করতে পারে বলেই বিজ্ঞানীরা বলেন, বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে ওরাং ওটাং মানুষের অনেক কাছাকাছি। সম্প্রতি এরই প্রমান মেলে বোর্নিওর অভয়ারণ্যে।
দেখা যায়, নদীর পানিতে কোমর পর্যন্ত ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এক যুবক। আর তাকে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এক ওরাং ওটাং। এমনই অভাবনীয় এক ছবি দেখে মুগ্ধ হলেন নেটিজেনরা।

জানা গেল, এই ছবি তোলা হয়েছে বোর্নিওর অভয়ারণ্যে। সেখানে সংরক্ষণবাদীরা কাজ করছেন বানর শ্রেণিকে সাপের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। তখনই এক সংরক্ষণ বাদী ব্যক্তি নদীতে সাপের সন্ধানে নামলে তার কোমর পর্যন্ত কাদাজলে ডুবে গেলে তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ওরাং ওটাংটি।

ডেইলি মেইল অনুসারে এই অসামান্য ছবিটি তুলেছেন অনিল প্রভাকর। তিনি তার বন্ধুদের সঙ্গে সাফারিতে বেরিয়ে ওই দৃশ্যের সাক্ষী হন।

পরে প্রভাকর জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি ’বোর্নিও সার্ভাইভাল ফাউন্ডেশন’-এ কাজ করেন। ওই সংস্থা বিপন্ন প্রাণীদের প্রাণ বাঁচাতে কাজ করেন। সংস্থার তরফেই ওই ছবি ফেসবুকে শেয়ার করা হয় বৃহস্পতিবার। ছবি দেখে মুগ্ধ নেটিজেনরা।

ওই ব্যক্তি অবশ্য ওরাং ওটাংয়ের সাহায্য নেননি। কেননা ওই ওরাং ওটাংটি বন্য।

জানা যাচ্ছে, ওই নদীতে সাপ রয়েছে এই খবর পেয়ে তিনি নদীতে নামেন। সেখানে নেমে তিনি নদীর ধারের ঝোপ পরিষ্কার করে সাপের অনুসন্ধান করছিলেন।

আর তার কিছুক্ষন পর লোকটি দেখতে পায়, ওরাং ওটাংটি নদীর তীরে এসে হাজির হয়। তবে তাকে পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে ওরাং ওটাংটি তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিটি তার সাহায্যে কোনো সাড়া দেননি। তার ভাষ্যমতে, তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া একটি বন্য জন্তু, কোনো মানুষ নয়। যেহেতু সে প্রানী হওয়ায় মানুষ তার সাথে পরিচিত নয়, তাই সে তাকে বিশ্বাস করেনি।