অনেক ব্যক্তি রয়েছে যারা কিনা বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান উদ্বোধনের জন্য সমাজের অনেক নামি-দামি ব্যক্তিদের আমন্ত্রন জানিয়ে থাকে। রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও রয়েছে এই তালিকায়। তবে সম্প্রতি একটি ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানে। দেশটির এক মন্ত্রী দোকান উদ্বোধন করতে গিয়ে দাঁত দিয়ে ফিতা কেঁটেছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এবং মূহুর্তেই ভাইরাল হয়েছে ভিডিওটি।
কোনো অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো কোনও নতুন ঘটনা নয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কাটার চলও আমাদের সকলের কাছেই সুপরিচিত। এমনকি, ফিতা কাটার জন্য কাঁচির ব্যবহার যে হয় সেটিও আমাদের জানা। কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কখনও প্রধান অতিথিকে দাঁত দিয়ে ফিতা কাটতে দেখেছেন? সম্প্রতি পাকিস্তানে এমন দৃশ্য দেখা গেল, যেখানে দেশটির একজন মন্ত্রী একটি দোকানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে তিনি দাঁত দিয়ে ফিতা কাটার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে। অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ইতিমধ্যেই তার এই ঘটনাকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় তুলে দিয়েছেন।

পাকিস্তানের জেলমন্ত্রী এবং পাঞ্জাব সরকারের মুখপাত্র ফাইয়াজ-উল-হাসান চোহানকে গত বৃহস্পতিবার তার রাওয়ালপিন্ডি নির্বাচনী এলাকার একটি ইলেকট্রনিক্স দোকান উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দোকান উদ্বোধনের সময় তিনি ফিতাটি কাটার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী সেটা কাটা সম্ভব হয়নি। বেশ কয়েকবার করার চেষ্টা করার পর মন্ত্রী বেশ কিছুটা অসহায়ভাবে আশেপাশের দর্শকদের দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকেন।
তারপরই ঘটল সেই ঘটনা। তিনি চরম হাস্যকর ভঙ্গিতে দাঁত দিয়ে ফিতাটি কাটতে শুরু করেছিলেন। এই দৃশ্য দেখে সবাই হাসিতে ফেটে পড়েছিল। মন্ত্রী নিজেই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন কেন তিনি এভাবে ফিতা কাটার রাস্তা বেছে নিয়েছিলেন। "কাঁচি ভোতা এবং খারাপ" বলে তিনি জানান, দোকান মালিকের দোকানটিকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্যই তিনি এই নতুন বিশ্ব রেকর্ড তৈরি করেছেন।

ক্লিপটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট ইউজাররা ওই মন্ত্রীকে নিয়ে ট্রোল করা শুরু করে দিয়েছেন। যদিও অনেকেই মন্ত্রীর এই ঘটনাকে উৎসাহিত করেছেন। কিন্তু সব মিলিয়ে এই ক্লিপ ইন্টারনেট দুনিয়ায় রীতিমত শোরগোল ফেলে দিয়েছে। মন্ত্রীর এই কাজের মাধ্যমে বোঝাই যায় আজকের দুনিয়ায় ভাইরাল হওয়ার জন্য যে কেউ উদার মানসিকতার পরিচয় দিতে পারছেন। অন্য সময় হলে হয়তো এই ধরনের ভিডিয়ো সেন্সর করে দেওয়ার একটা চেষ্টা করা হতো। কিন্তু মন্ত্রী নিজেই বেশ উৎসাহ সহকারে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। তিনি নিজেও ট্রোলগুলিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এদিকে দাঁত দিয়ে ফিতা কাঁটার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঐ মন্ত্রী ট্রোলের শিকার হয়েছেন। এবং ইন্টারনেট ইউজাররা অনেকেই অনেক ধরনের মন্তব্য করেছেন। অবশ্যে দাঁত দিয়ে ফিতা কাঁটার কারন জানিয়েছেন মন্ত্রী নিজেই।