বর্তমান সময়ে এমনিতেই নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে বির্তকের শেষ নেই। নতুন করে এই নির্বাচনকে ঘিরে আবারও বির্তকের সৃষ্টি হয়েছে। দেশে চলছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন। এই সংকটময় পরিস্তিতির মধ্যেও সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের উদ্যেগ গ্রহন করেছে নির্বাচন কমিশন। অবশ্যে আদালত তা বাতিল করে দিয়েছে। এবার এই প্রসঙ্গে বেশ কিছু কথা জানালেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
হাইকোর্ট কর্তৃক আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন স্থগিতের পর ফেসবুক লাইভে এসে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ’মানুষের অভিশাপ আপনাদের কখনোই ছাড়বে না।’ সোমবার (২৬ জুলাই) দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, ’আজকে অত্যন্ত দুঃখ নিয়ে এই ভিডিওটি আপনাদের সামনে নিয়ে আসছি। পৃথিবীতে যত কমিশন তৈরি হয় সব মানুষের কল্যাণে, মানবিক দিক চিন্তা করে তৈরি হয়। একই ধারণা মতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নিয়েও আশা করা হয় যে তারাও মানুষের কল্যাণেই সব সময় কাজ করবে।’ তিনি বলেন, ’এই যে মহামান্য হাইকোর্ট আজকে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছেন। এখন সাধারণত হাইকোর্টের যেহেতু অর্ডার এসেছে, আমি আপনাদের সম্মুখে একটি জিনিস বলতে চাই, আমাদের নির্বাচন কমিশনের মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার- দেখুন সরকার যেখানে সারাদেশে লকডাউন দিয়ে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের এত এত চেষ্টা করছে। এই সময়ে সরকার যেখানে ভ্যাকসিনের জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে, যেখানে মানুষ আইসিইউয়ের জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে। যেখানে আমাদের সিলেট বিভাগে অক্সিজেন পাওয়া যাচ্ছে না, আইসিইউতে রেখেও মানুষ মা/রা যাচ্ছে। ছয়শ মানুষ সিলেট বিভাগে অলরেডি ম/রে শেষ। আজকেও দেখলাম যে প্রায় ১০ জনের মতো মা/রা গেছে। যেখানে ৩৫ হাজার মানুষ অলরেডি করোনা পজিটিভ।’

লকডাউনের মধ্যে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সুমন বলেন, ’সিলেট বিভাগের এমন একটি আসনে সাড়ে তিন লাখ মানুষকে মৃ/ত্যু/র মুখে ঠেলে দিলেন। আমি আপনাদের একটা জিনিস বলে দিতে চাই, সরকারের কাজকে যদি নির্বাচন কমিশনাররা আগাইয়া নিয়া না যান তবে কারা নিয়ে যাবে? সরকারের কথা বাদই দেন। সিলেটের সাড়ে তিন লাখ মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই?’ যুবলীগের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ’অনেক ক্ষেত্রে সাংবিধানিক পোস্ট বলে আমরা অনেক কিছু বলতে চাই না। মনে করি কিছু বললে হয়তো আপনারা আমাদের ওপর বিরাগভাজন হয়ে আমাদেরকে মামলা দিয়ে দিতে পারেন কিন্তু একটা জিনিস মনে রাখেন মানবিকতার ঊর্ধ্বে সংবিধান না। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আপনার ক্ষমতা ছিল সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখেও এই নির্বাচন দিতে পারতেন। সংবিধানের দোহাই দিলেন ঠিকই কিন্তু সংবিধানের সুযোগের কথা আপনি বললেন না, ব্যবহারও করলেন না। অথচ সংবিধানের দোহাই দিয়ে এই সাড়ে তিন লাখ মানুষকে মৃ/ত্যু/র মুখোমুখি ঠেলে দিয়েছেন। এই যে সাড়ে তিন লাখ মানুষ আপনার কি কখনো বিবেকে বাধে নাই? এই যে সিলেটের নির্বাচন কমিশন যিনি চালান তিনিও করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মা/রা গেছেন। এর পরেও কি আপনার মনে হয় না যে মানুষের জীবনের দাম আছে?’

সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, ’আপনারা তো থাকেন এসি রুমে, আপনাদের কাছে মানুষ যাইতে পারে না। কারণ, আপনারা তো সাংবিধানিক পোস্ট নিয়ে আছেন। দেখেন মহামান্য হাইকোর্ট যদি ইন্টারফেয়ার না করতো…, আমি ধন্যবাদ জানাই মহামান্য হাইকোর্টকে। এরকম সময়ে হাইকোর্ট ইন্টারফেয়ার করার কারণে আপনি যে মৃ/ত্যু/র মিছিলটাকে বড় করাচ্ছিলেন, এটা থেকে কিছুটা হলেও মানুষ রক্ষা পাবে।’ তিনি বলেন, ’আমি একটা জিনিস বলতে চাই, আপনাদের কাছে মানুষের আশা অনেক। অন্তত আপনারা তো আমাদের মতো আচরণ করার কথা না। আপনারা তো আচরণ করবেন হচ্ছে গিয়ে… যে কারণে বহু মানুষের আশা-নিরাশা জায়গা আপনারা। সিলেট বিভাগের সাড়ে তিন লাখ মানুষকে যদি মানুষই মনে না করেন তবে আপনাদের ওপর কোনোদিন মানুষের সম্মান আসবে না।’ ভিডিওর শেষ দিকে দেখে এসে সুমন আরও বলেন, ’আপনারা এই কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সময়ে করোনা মহামারির মধ্যেও গাইবান্ধা, ঢাকায় বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করেছেন। হয়তো বাংলাদেশের মানুষ কিছু বলে না। তবে বহু মানুষের মৃ/ত্যু/র দায় আপনাদেরকে নিতে হতো যদি প্রকৃত অর্থে ঠিকভাবে মানুষ আইনের আশ্রয় নিতে পারতো। তার পরও বলি, এখনো সময় আছে, আইন আপনাদেরকে কিছু করতে পারবে না। তবে, মানুষের অভিশাপ আপনাদেরকে কখনোই ছাড়বে না।’

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন স্থগিত করেছে। এমনকি গতকাল সোমবার (২৬ জুলাই) রাতে নির্বাচন স্থগিতাদেশের চিঠি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত সেই চিঠিতে বলা হয়, মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালনার্থে ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সিলেট-৩ শূন্য আসনের নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে কমিশন।