গোটা বিশ্বের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তি ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দারিদ্র বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে তিনি অর্জন করেছেন ব্যপক সফলতা। এমনকি বাংলাদেশের প্রথম নোবেলজয়ী ব্যক্তি তিনি। সম্প্রতি সময়ে তিনি আরোও একটি বিশেষ সম্মাননা পেতে চলেছেন। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি এক বিবৃতিতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আসন্ন টোকিও অলিম্পিক গেমসে ’অলিম্পিক লরেল’ সম্মাননা দেওয়া হবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এই সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) এক বিবৃতিতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে বিশেষ অবদান রেখে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছেন ড. ইউনূস। এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য অলিম্পিকে ৮১ বছর বয়সী অর্থনীতিবিদকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে।
’অলিম্পিক লরেল’ পদক মূলত তাদেরকেই প্রদান করা হয় যারা শিক্ষা, সংস্কৃতি, উন্নয়ন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখেন। সেই লক্ষ্যে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ’অলিম্পিক লরেল’ পদক দেওয়ার প্রচলন শুরু হয়। সেবার রিও অলিম্পিকে এই সম্মানজনক পদক দেওয়া হয় কেনিয়ার সাবেক অলিম্পিয়ান কিপ কেইনোকে।

তিনি ১৯৬৮ এবং ১৯৭২ সালে ১৫০০ মিটারে স্বর্ণপদক জেতেন। এছাড়া তিনি ছিলেন কেনিয়ার অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট এবং আইওসির সদস্য। তিনি নিজের দেশে শিশুদের জন্য স্কুলের পাশাপাশি একটি অ্যাথলেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও গড়ে তুলেছেন। কিপ কেইনোর পর ড. ইউনূস হতে যাচ্ছেন ’অলিম্পিক লরেল’ সম্মাননা পাওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তি। আইওসির বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ২৩ জুলাই ২০২১ অলিম্পিক এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস "অলিম্পিক লরেল" পুরস্কার গ্রহণ করবেন। অলিম্পিক এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) পক্ষ থেকে পুরস্কারটি প্রদান করবে। সারা বিশ্বে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখবেন। এ ব্যাপারে অলিম্পিক প্রেসিডেন্ট থমাস বাখ বলেন, "প্রফেসর ইউনূস আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণা।" তিনি আরও বলেন, প্রফেসর ইউনূস তার সামাজিক ব্যবসায়ের ধারণাকে ক্রীড়া জগতে উন্নয়নের জন্য কাজ করার জন্য এই সম্মান পাবেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস তিনি তার কর্মের মধ্যে দিয়ে অর্জন করেছে ব্যপক সফলতা এবং সম্মাননা। এমনকি বর্তমান সময়ে তিনি সমাজ সেবা মূলক নানা কর্মকান্ডে জড়িত। তিনি তার অসামন্য কাজের জন্য আসন্ন টোকিও অলিম্পিক গেমসে ’অলিম্পিক লরেল’ সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন।