বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব পালন করছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ। এই দলটি পর পর তিনবার নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি দলটি দেশের উন্নয়নের জন্যও আপ্রান ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে অর্জন করেছে ব্যপক সফলতা। সম্প্রতি এই আওয়ামীলীগ দলের সভানেত্রী এবং বাংলাদেশের সরকার প্রধান শেখ হাসিনা দেশের সরকারী খাতে দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে বেশ কিছু কথা তুলে ধরেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ভেতরে আগের মতো ’সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল’ প্রবণতা নেই। রবিবার (১৮ জুলাই) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ’আমি যে জিনিসটা এখন লক্ষ করি সেটা, প্রত্যেকটা সরকারি অফিসারদের ভেতরে আগে যেমন ’সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল’ প্রবণতা ছিল এখন সেটা নেই। আজকে প্রত্যেকে কিন্তু নিজে নিজের কাজটাকে নিজের বলে গ্রহণ করছে, আপনার দায়িত্বটা আপনি নিজে গ্রহণ করছেন এবং বাস্তবায়ন করবার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কাজ।’

সরকারপ্রধান বলেন, ’২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর থেকে এ পর্যন্ত আমি যেটা লক্ষ করেছি, সর্বক্ষেত্রে আমাদের যারা প্রশাসনে আছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে আছেন অথবা আমাদের স/শ/স্ত্র বাহিনীতে আছেন, সকলের ভেতরে কিন্তু এই পরিবর্তনটা এসেছে।’
তিনি বলেন, ’সকলে কিন্তু আমাদের দেশের কাজগুলো যেগুলো জাতির জন্য, যেগুলো মঙ্গলের জন্য, জনগণের জন্য, সেই কাজগুলোকে ওউন করেছেন। অর্থাৎ আপন বলে গ্রহণ বা দায়িত্ব বলে গ্রহণ করে আপনারা তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। এভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন বলেই এত অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২০/২১-এর ভেতরে যে উন্নতিটা, এর ভেতরেই কিন্তু আমাদের অর্জনগুলো হয়েছে। আজকে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ একটা সম্মানজনক অবস্থায় এসেছে।

জনগণের সেবা করা সরকারের দায়িত্ব—স্মরণ করিয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’সরকার কে? সরকার হচ্ছে জনগণের সেবা করবে। আমাদের লক্ষ্য যারা সেবা করবে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনসেবা করা, অর্থাৎ জনগণের সেবামূলক প্রশাসন গড়ে তোলা। সরকারে থেকে শুধু সরকারের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবো তা নয়, এখানে আমাদের একটা দায়িত্ব রয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ’দায়িত্বটা হচ্ছে জনগণের প্রতি। জনগণের কল্যাণে, জনগণের স্বার্থে এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা। সেই কথাটা চিন্তা করে আমরা সকল কর্মকাণ্ড, আমাদের যেমন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ, বাজেট দেই বা প্রশাসনে যেসব কর্মকাণ্ড আমরা পরিচালনা করি, সেগুলো যেন গতিশীলতা পায়, সেগুলো যেন জনগণের কল্যাণমুখী হয়, জনগণ যেন তার সুফলটা ভোগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করি।’

প্রধানমন্ত্রী হয়ে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ’বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়েই আমার পথচলা এবং সেভাবেই আমাদের সংগঠন কাজ করেছে, আমরাও প্রচেষ্টা চালিয়েছি। যখন সরকারে এসেছি বাংলাদেশের মানুষের জন্য সেবক হিসেবে কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার জন্য অন্য কিছু না। শুধু একটা সুযোগ। সুযোগটা হলো মানুষের জন্য কাজ করা, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই আদর্শটা বাস্তবায়ন করা। এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’ করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’বাংলাদেশকে আমরা যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম, সেখানে একটা বিরাট ধাক্কা লেগেছে।’ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ’এত বাধার মধ্যে, এ রকম একটা অস্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যে সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন, সে জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ এটুকু কাজ যদি আমরা না করতে পারতাম তাহলে হয়তো বাংলাদেশের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে দাঁড়াতো।’

তিনি বলেন, ’এটা ঠিক যেহেতু এটা বিশ্বব্যাপী সমস্যা। এখানে আমাদের একার কিছু করার নাই। তারপরও আমাদের প্রত্যেকের চেষ্টা রয়েছে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করা, জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আর্ত-সামাজিক অবস্থা গতিশীল রাখা।’ অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারায় আক্ষেপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ’করোনার কারণে আমি কিন্তু বলতে গেলে একরকম বন্দি জীবনই, তার আগে ছিলাম ছোট জেলখানায়, এখন আছি বড় জেলখানায়। কারণ, এই গণভবন থেকে আর বের হতে পারিনি। একটু বড় জেলখানা এটা হলো কথা।একটু স্বাধীনতা আছে। দোতলা থেকে নিচে নামতে পারি, মাঠে হাঁটতে পারি এই পর্যন্ত।’

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বিরাজ করছে। এই ভাইরাসের সংক্রমনের ভীতির মধ্যে দিয়েও দেশের অনেক উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। এমনকি এই মারাত্মক ভাইরাস নিয়ন্ত্রনেও বাংলাদেশ সরকার আপ্রান ভাবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে দেশে এই ভাইরাস থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য ভ্যাকসিনের ব্যবহার শুরু হয়েছে।