কোভিড১৯ ভাইরাসের সংক্রমন বিশ্ব মহামরিতে পরিনত হয়েছে। এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রনর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিনের ব্যবহার শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে এই টিকা আমদানি করে ব্যবহার কার্যক্রম শুরু করেছে। গতকাল বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহন করেছেন। তার এই টিকা গ্রহনকে ঘিরে বেশ কিছু কথা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
করোনার টিকা নেয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। এভাবে আগ্রহী হলে বিএনপির সমস্ত নেতৃবৃন্দ, কর্মীদের টিকা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। রাজধানীর ধানমন্ডিতে সোমবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। সেখানে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির ঈদ উপহার ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদ বলেন, ’প্রথমে সমালোচনা করে, আবার সেই টিকাই নিচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া, এটা ভালো। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি যেন টিকা গ্রহণ করে পুরোপুরি সুস্থ থাকেন, করোনা মহামারি থেকে মুক্ত থাকেন। সেটিই আমরা প্রত্যাশা করি, সেটিই আমরা বিধাতার কাছে প্রার্থনা করি। ’আজকে আমরা দেখতে পেলাম, বেগম খালেদা জিয়াও টিকা নিচ্ছেন। এর আগে তার দলের নেতারা টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিলেন, আবার সেই নেতারাই পরে টিকা নিয়েছিলেন।’

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ’আপনারা টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিলেন। এখন বেগম খালেদা জিয়াসহ সবাই যখন টিকা গ্রহণ করছেন, তখন অতীতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য জাতির কাছে আপনাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। ’অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে টিকা ইউরোপের মানুষও নিচ্ছে সেই টিকা দেশে আনার সময় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সেটা কোনো কাজ করবে না। এমনকি এই টিকা নিলে স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা আছে -একথা বলে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে। পরবর্তীতে দেখতে পেলাম তারাই আবার টিকা নিলেন। ইতোমধ্যেই বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের বেশির ভাগই টিকা নিয়েছেন। কেউ কেউ গোপনে, আবার কেউ কেউ প্রকাশ্যে টিকা নিয়ে বললেন- খুব আরামবোধ করছেন।’

সরকার দেশের সমস্ত মানুষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ’প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন দেশের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হবে। আমাদের এই টিকা সব মানুষের জন্য। ’আমরা বিএনপির সমস্ত নেতৃবৃন্দ, কর্মীদেরকেও আমরা টিকা দেব। আর তারা যদি আগে নিতে চান, সে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। দয়া করে মানুষের মধ্যে আর বিভ্রান্তি ছড়াবেন না।’ হাছান মাহমুদ বলেন, ’আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে থাকছে। স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ও খাদ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। অন্য সংগঠন সেসব দেখে শিখতে পারে।’ অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ও করোনাসুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশের অনেকেই টিকা গ্রহন করেছে। বাংলাদেশ সরকার দেশের প্রত্যেক নাগরিককে টিকার আওতায় আনার জন্য আপ্রান ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই লক্ষ্যে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে বিভিন্ন কোম্পানির টিকা আমদানি করছে। সম্প্রতি বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে বিপুল পরিমানের টিকা বাংলাদেশে পৌছিয়েছে।